হাওড়ার বালিতে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। এক প্রবীণ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে তাঁর নিজের ফ্ল্যাটেই কাটারি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁরই দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত গৃহপরিচারিকার বিরুদ্ধে। মৃত চিকিৎসকের নাম রামকৃষ্ণ চালকি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) এই হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত পরিচারিকা নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পুলিশের ভূমিকা
পুলিশ সূত্রে খবর, বালির জিটি রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্টে একাই থাকতেন রামকৃষ্ণবাবু। সেখানে দীর্ঘ তিন বছর ধরে কাজ করতেন ফুলি নামের ওই যুবতী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) বালির থানায় গিয়ে ফুলি দাবি করেন যে, তিনি তাঁর মালিককে খুন করেছেন। পুলিশ দ্রুত ওই অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। দেহের পাশ থেকেই উদ্ধার হয়েছে রক্তমাখা সেই কাটারি।
হত্যার নেপথ্যে কী কারণ?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এবং মৃত চিকিৎসকের পরিবারের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশি জেরায় বেশ কিছু পয়েন্ট উঠে এসেছে:
ঘনিষ্ঠতা ও বিবাদ: চিকিৎসক ও পরিচারিকার মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ব্ল্যাকমেলিংয়ের তত্ত্ব: চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, ফুলি দীর্ঘ সময় ধরে রামকৃষ্ণবাবুকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করছিলেন এবং বড় অঙ্কের টাকা দাবি করছিলেন।
তীব্র বাকবিতণ্ডা: ঘটনার দিন টাকা পয়সা নিয়ে দু’জনের মধ্যে চরম অশান্তি শুরু হয়। সেই সময় মেজাজ হারিয়ে হাতের কাছে থাকা কাটারি দিয়ে চিকিৎসকের ঘাড়ে ও মাথায় কোপ বসান ফুলি।
প্রতিবেশীদের বয়ান
প্রতিবেশীদের দাবি, রামকৃষ্ণবাবু অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কিন্তু ওই পরিচারিকার সাথে তাঁর প্রায়ই উচ্চবাচ্য শোনা যেত। তবে বিষয়টি খুনের পর্যায় পৌঁছাবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।





