হাড়হিম করা ঘটনা, ওড়িশায় গরুর পেট থেকে বের হলো ৪০ কেজি প্লাস্টিক, চিকিৎসকরাও হতবাক

এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, ওড়িশার গঞ্জাম জেলার একটি সরকারি ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা একটি অসুস্থ গরুর পেট থেকে অপারেশন করে প্রায় ৪০ কেজি প্লাস্টিক অপসারণ করেছেন। এটি শুধুমাত্র একটি প্রাণীর স্বাস্থ্যঝুঁকির ঘটনা নয়, বরং পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণের এক ভয়াবহ চিত্র।
কী ঘটেছিল?
পাঁচ বছর বয়সী গরুটি গত রবিবার হিলপতনা এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছিল। গরুটি দীর্ঘদিন ধরে মল ও মূত্র ত্যাগে সমস্যা অনুভব করছিল এবং পেটে ব্যথা হওয়ায় প্রায়ই নিজে নিজেই পেটে লাথি মারছিল। প্রাথমিক চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করেন এবং দেখতে পান গরুর পেটে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক জমে আছে। তিন ঘণ্টাব্যাপী এক জরুরি অপারেশনের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক, পলিথিন ব্যাগ এবং অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
অপারেশনের দায়িত্বে থাকা পশুচিকিৎসক সত্য নারায়ণ কর বলেন, রাস্তার ধারে ফেলে দেওয়া খাবারের খোঁজে ঘোরা গরুগুলো প্রায়ই পলিথিনসহ অপচনশীল বস্তু খেয়ে ফেলে। এগুলো তাদের অন্ত্রে জমে গিয়ে হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ চিত্র
এই ঘটনাটি ব্রহ্মপুর বা ‘সিল্ক সিটি’-তে প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদিও স্থানীয় পৌরসভা প্লাস্টিক ব্যবহার, পরিবহন এবং উৎপাদনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তবুও তা কার্যকরভাবে মেনে চলা হচ্ছে না। এর আগে ২০২৩ সালে একই হাসপাতালে একটি গরুর পেট থেকে প্রায় ৩০ কেজি প্লাস্টিক অপসারণ করা হয়েছিল।
প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার অঞ্জন কুমার দাস জানিয়েছেন, বর্তমানে গরুটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং তাকে আরও এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল যে, প্লাস্টিক দূষণ শুধু পরিবেশের জন্য নয়, প্রাণীকুলের জন্যও মারাত্মক হুমকি।