শীতের শহরে ভয়াবহ দুর্যোগ। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভুটিয়া মার্কেট। মুহূর্তের অসতর্কতা নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ? কারণ যাই হোক না কেন, চোখের পলকে ভস্মীভূত হয়ে গেল অন্তত ৫৫টি দোকান। আগুনের লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল আকাশ, যা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়? প্রাথমিকভাবে দমকল বাহিনীর অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। তবে বাজারের ভেতরে দাহ্য বস্তু এবং শীতবস্ত্র মজুত থাকায় আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের খবর, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাজারের ভেতর ও বাইরের অংশ নিমেষের মধ্যে আগুনের গ্রাসে চলে যায়। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল প্রশাসন।
সর্বস্ব হারিয়ে পথে ব্যবসায়ীরা: বছরের এই সময়টা ভুটিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। ভুটিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি বহু স্থানীয় ব্যবসায়ী এখানে শীতবস্ত্রের ব্যবসা করেন। চোখের সামনে নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা দোকান ছাই হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁরা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকানের ভেতরে থাকা দামী পোশাক, আসবাবপত্র এবং গচ্ছিত নগদ টাকা— কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনের ভূমিকা: খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যাওয়ায় কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হয় কর্মীদের। খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছান বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতা পুরসভার ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইন্দ্রনীল কুমার। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হবে।
তবে এই ঘটনা ফের একবার শহরের বাজারগুলোর অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা সামনে এনে দিল। বাজারে পর্যাপ্ত জল বা আগুন নেভানোর যন্ত্র ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।