২০২৩ সালের ৫ আগস্ট থেকে কারাবন্দি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আজ, ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ তাঁর কারাবাসের প্রায় ১০০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে। রাওয়ালপিণ্ডির হাই-সিকিউরিটি আদিয়ালা জেলে বন্দি তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) প্রধানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গত কয়েক মাসে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের অবস্থা নিয়ে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে শিউরে উঠছেন তাঁর অনুগামীরা।
চোখের গুরুতর সমস্যা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস: সম্প্রতি ইমরানের আইনি দল এবং তাঁর বোন আলিমা খান দাবি করেছেন যে, জেলের অন্ধকার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ইমরানের ডান চোখে ‘রেটিনাল ভেইন অক্লুশন’ (Retinal Vein Occlusion) বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সম্প্রতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে পরীক্ষা করে ইনজেকশন দিয়েছেন।
জেলে ‘অমানুষিক’ আচরণের অভিযোগ: ইমরান খান নিজে আদালতে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে পশুর চেয়েও অধম পরিবেশে রাখা হয়েছে। তাঁর সেলে গত কয়েক মাসে একাধিকবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁর দুই ছেলে কাসিম ও সুলেমান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তাঁদের বাবাকে ‘ডেথ সেল’-এ রাখা হয়েছে যেখানে পর্যাপ্ত আলো বা বাতাসের অভাব রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও ইমরানের এই নির্জন কারাবাসকে ‘মনস্তাত্ত্বিক অত্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও লড়াই: তোষাখানা মামলা থেকে শুরু করে সাইফার মামলা—একের পর এক সাজা তাঁর ওপর চেপেছে। তবে জেলের ভেতরে থেকেও ইমরান দমে যাননি। সম্প্রতি তাঁর ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি বিচারব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ভাঙতে না পেরে তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও জেলে অমানবিক পরিবেশে রাখা হচ্ছে। ২০২৬-এর এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে ইমরানের শরীর ও মন কি এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।