দীর্ঘ টানাপড়েনের অবসান। বকেয়া ডিএ (DA) আদায়ের দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের হাজরা মোড়ের সভা নিয়ে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারের আপত্তি এবং পুলিশের নিষেধাজ্ঞাকে একপ্রকার নস্যাৎ করে দিয়ে শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দিলেন বিচারপতি। ফলে খাস কলকাতায় দাঁড়িয়ে ফের একবার হুঙ্কার ছাড়ার সুযোগ পেলেন সরকারি কর্মচারীরা।
আদালতে কেন গিয়েছিল মামলা? বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মেনে AICPI অনুযায়ী অবিলম্বে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে হবে। এই দাবিতেই হাজরা মোড়ে একটি বড়সড় সভার ডাক দিয়েছিল মঞ্চ। কিন্তু নিরাপত্তা এবং যানজটের অজুহাতে পুলিশ এই সভার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। এরপরই ন্যায়বিচারের আশায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আন্দোলনকারীরা।
হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ: এদিন মামলার শুনানিতে আদালত সাফ জানায়, গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণভাবে সভা বা আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে। কেবল যানজটের দোহাই দিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। আদালত নির্দেশ দিয়েছে:
হাজরা মোড়ে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চকে সভা করার অনুমতি দিতে হবে।
সভা চলাকালীন যাতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, তার দিকে নজর রাখবে পুলিশ।
তবে সাধারণ মানুষের চলাচলে যাতে চরম অসুবিধা না হয়, সেই বিষয়ে আন্দোলনকারীদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিক্রিয়া: হাইকোর্টের এই নির্দেশকে ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের বক্তব্য, রাজ্য সরকার বারবার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করলেও বিচারব্যবস্থা সাধারণ মানুষের পাশেই আছে। হাজরা মোড়ের এই সভা থেকে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা: মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ঢিলছোড়া দূরত্বে হাজরা মোড়ে এই ধরণের ডিএ আন্দোলনের সভার অনুমতি মেলায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি মেটানোর বদলে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা আদালতের নির্দেশে বিফল হলো।
বকেয়া ডিএ-র দাবিতে এই লড়াই এবার কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্যের সরকারি কর্মচারী মহল।





