হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার কড়া নির্দেশ শুভেন্দু অধিকারীর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম আইনি ও রাজনৈতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের সমস্ত স্পষ্ট নির্দেশকে সম্পূর্ণভাবে অমান্য করে সভা করার গুরুতর অভিযোগ তুলে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ারও জোরালো বার্তা দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার, যেদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দুটি পৃথক শিবির বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করেছিল। এর আগে আদালতের অনুমতি পেতে তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীই হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়েছিল। আদালতের পূর্বনির্ধারিত রায় অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশকে রানি রাসমনি রোডে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ অংশকে ক্যাথিড্রাল রোডের নির্দিষ্ট একটি দিকে সভা করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমতি দেওয়ার সময় হাইকোর্টের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কড়া কিছু শর্ত ও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, ওই সমাবেশে ১৫০০ জনের বেশি কর্মী-সমর্থক কোনোভাবেই উপস্থিত থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতে হবে এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টের মধ্যে পুরো অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে ক্যাথিড্রাল রোড ও রানি রাসমনি রোডের অন্তত একটি করে দিক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
কিন্তু বিরোধী শিবিরের দাবি, আদালতের এই সমস্ত নির্দেশকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কার্যত রাস্তা বন্ধ করে বিশাল জমায়েত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি সরাসরি আঙুল তোলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তোপ দেগে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনারা নিজেরাই চাক্ষুষ করুন কীভাবে কলকাতার বুকে কলকাতা হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে! রাস্তার পাশের গাছতলার লোকজন এবং সাধারণ পথচারীদের আটকে রাস্তা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে এই সভা করা হয়েছে। আমি ইতিমধ্যেই এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি। শুধু তাই নয়, আদালতের অবমাননার দায়ে ওঁর বিরুদ্ধে অতি শীঘ্রই হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ করার সমস্ত প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ করা হয়েছে।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছুটির দিন বা ব্যস্ত সময়ে এ ধরনের জমায়েত এবং আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করার মতো ঘটনা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকেই ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। বিরোধী দলনেতার এই সাঁড়াশি আক্রমণ এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারির পর শাসকশিবির কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেটাই দেখার। আদালতের রায়কে অমান্য করে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে আইনি লড়াইকে আরও কোন পর্যায়ে নিয়ে যায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।