বড় ধাক্কা সাধারণ মানুষের পকেটে! ফের একলাফে বাড়ল সিএনজির দাম, নতুন দর কত জানেন?

ইরান-আমেরিকা তথা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে জ্বালানির সংকট। যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়ল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পরিবহনে। পেট্রোল ও ডিজেলের দামে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, এবার একলাফে কেজিতে প্রায় চার টাকা বাড়ল কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাস বা সিএনজির (CNG) দাম। ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেড (IGL) সূত্রে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির (LNG) দাম মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। আজ, শনিবার ভোর ৬টা থেকেই কার্যকর হয়ে গেছে সিএনজির এই বর্ধিত নতুন দাম। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, দিল্লি এবং সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে সিএনজির দাম কেজি প্রতি ৩ টাকা ৮৯ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশোধিত হারের জেরে রাজধানী দিল্লিতে এখন প্রতি কেজি সিএনজির নতুন খুচরা মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ টাকা ৯৮ পয়সা, যা এতদিন ৮৩ টাকা ৯ পয়সা ছিল। পাশাপাশি, এনসিআর (NCR) অঞ্চলের বিভিন্ন শহরেও লাগামছাড়া দামের ছ্যাঁকা লেগেছে। নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা এবং গাজিয়াবাদে সিএনজির নতুন দাম ধার্য করা হয়েছে প্রতি কেজি ৯৫ টাকা ৫৯ পয়সা। এছাড়া গুরুগ্রামে গ্রাহকদের প্রতি কেজির জন্য গুণতে হবে ৯২ টাকা ১ পয়সা এবং মিরাট ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন দাম হয়েছে প্রতি কেজি ৯৫ টাকা ৪৭ পয়সা। কিন্তু হঠাৎ কেন সিএনজির দাম এতটা বাড়ানো হলো? সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে আমদানিকৃত স্পট এলএনজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যেহেতু ভারতের সিএনজি উৎপাদনের একটা বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল, তাই ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ও আমদানি খরচ সামলাতে এই মূল্যবৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলি। চলতি বছরে সিএনজির দামে এটি পঞ্চম দফার বড় ধাক্কা। সিএনজি চালিত গাড়ি, অটো-রিক্সা, ট্যাক্সি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বাহনগুলির অপারেটিং খরচ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও বাণিজ্যিক চালকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে।