শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হস্টেল সাধারণত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু সেই হস্টেলের চার দেওয়ালের মধ্যেই যে এমন বিভীষিকা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি আবাসিকরা। গভীর রাতে যখন হস্টেলের বাকি ছাত্ররা ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক সহপাঠী হাতে রড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল অন্যদের ওপর। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় মৃত্যু হয়েছে এক ছাত্রের এবং গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও বেশ কয়েকজন। হাড়হিম করা এই ঘটনাটি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত তখন গভীর। হস্টেলের একটি ঘরে কয়েকজন ছাত্র অঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন। আচমকাই তাঁদেরই এক সহপাঠী একটি লোহার রড নিয়ে ঘরে ঢোকে এবং কোনো প্ররোচনা ছাড়াই ঘুমন্ত ছাত্রদের মাথায় ও শরীরে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। আর্তচিৎকার শুনে পাশের ঘরের ছাত্ররা ছুটে এলে দেখা যায়, রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। হামলাকারী ছাত্রটি এতটাই উত্তেজিত ছিল যে তাকে থামাতে হিমশিম খেতে হয় বাকিদের। ঘটনাস্থলেই মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে একজনের মৃত্যু হয়। বাকিদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ছাত্রটিকে গ্রেফতার করেছে। তবে কেন সে এমন ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত ছাত্রটি দীর্ঘদিনের কোনো মানসিক অবসাদে ভুগছিল অথবা সহপাঠীদের সঙ্গে তার পুরনো কোনো শত্রুতা ছিল। হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃত ছাত্রের পরিবার। হস্টেল চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। আবাসিকদের মধ্যে আতঙ্ক এতটাই যে অনেকেই হস্টেল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।