মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে বন্ধ হয়ে রয়েছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতে জ্বালানি তেল, এলপিজি (LPG) এবং এলএনজি (LNG) সরবরাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি বিচার করে ভারত সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে— উপসাগরীয় এলাকা এড়িয়ে এবার বিকল্প পথে আমেরিকা থেকে জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে।
নবান্ন বা দিল্লির সাউথ ব্লক সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে যাওয়ায় ভারতের বাজারে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার এবং পেট্রোল-ডিজেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল ১০০ শতাংশ। কিন্তু ভারত সময়মতো আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope) হয়ে দীর্ঘতর কিন্তু নিরাপদ পথে আমেরিকার টেক্সাস ও লুইজিয়ানা থেকে এলপিজি এবং অপরিশোধিত তেল আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
যদিও এই দীর্ঘ পথে জ্বালানি আনতে খরচ কিছুটা বাড়বে, তবুও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে হলেও জোগান স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে আমেরিকার মতো দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ভারতের এনার্জি সিকিউরিটি বা জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করবে। আপাতত দেশের বন্দরে আমেরিকার তরলীকৃত গ্যাস বোঝাই জাহাজ পৌঁছতে শুরু করেছে, যা সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমাবে।