গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের যে আকাল ও আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল, তার সমাধানে বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। পারস্য উপসাগরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও এলপিজি (LPG) বোঝাই দু’টি বিশালকার জাহাজ ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz), যা বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের কারণে কার্যত রুদ্ধ ছিল, সেখান দিয়ে এই জাহাজ চলাচলের অনুমতি মেলায় স্বস্তিতে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।
হরমুজের বাধা ও কূটনৈতিক জয়: বিশ্বের মোট এলপিজি এবং তেলের একটি বড় অংশ এই সরু সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ইরানের সুপ্রিম লিডারের উত্তরসূরি নির্বাচন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুশিয়ারির জেরে গত কয়েকদিন ধরে এই পথে জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের বিশেষ তৎপরতায় এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পর, ভারতের জন্য এই দু’টি বিশেষ ‘মেগা ভেসেল’ বা কার্গো জাহাজকে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান।
গ্যাসের জোগান ও দামের ওপর প্রভাব: খাদ্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই জাহাজ দু’টি ভারতের বন্দরে এসে পৌঁছালে বাজারে এলপিজি-র ঘাটতি পুরোপুরি মিটে যাবে। বর্তমানে বহু রাজ্যে রান্নার গ্যাসের বুকিং করার পর ১০-১২ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস দেশে এলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই জোগানে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। জোগান স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় বন্দরগুলোতে হাই-অ্যালার্ট: জাহাজ দু’টি আগামী ৩ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বই এবং গুজরাটের কান্ডালা বন্দরে ভিড়তে পারে। নিরাপত্তার খাতিরে ভারতীয় নৌসেনার নজরদারিতে এই জাহাজগুলোকে আনা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব পক্ষকেই সমানভাবে ডিল করতে সক্ষম হয়েছে।
রোজকার রান্নায় আর কোনো টান পড়বে না—এমনই আশ্বাস দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন দেখার, এই বিপুল আমদানির পর সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা স্বস্তি ফেরে।