‘হয় চাকরি দাও, নয়তো চিতা সাজাও!’ ৬৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রণক্ষেত্র উত্তরপ্রদেশ

উত্তরপ্রদেশের ৬৮,৫০০ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতি ও সংরক্ষণের দাবিতে সোমবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী সন্দীপ সিংয়ের বাসভবন ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। মাথায় ‘সংরক্ষণ কেলেঙ্কারি’ লেখা টুপি পরে, বাঁশি বাজিয়ে এবং রাস্তায় শুয়ে পড়ে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলা এই তুমুল আন্দোলনে পুলিশ ও প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাধে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় পুলিশ তাঁদের ওপর চড়াও হয়, মারধর করে এবং জোরপূর্বক সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে পুলিশ সমস্ত বিক্ষোভকারীকে আটক করে জোর করে ইকো গার্ডেনে পাঠিয়ে দেয়।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি, ২০১৮ সালের ওই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি, যার ফলে সংরক্ষিত শ্রেণীর প্রার্থীরা ৫% ছাড়ের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অবিলম্বে সংশোধিত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দাবিতে বিগত আট বছর ধরে তাঁরা আইনি ও রাজপথের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বহুবার সরকারি মহলে আশ্বাস মিললেও কাজের কাজ কিছু হয়নি বলে তাঁদের ক্ষোভ। এদিনের আন্দোলনে ‘এ কেমন জবরদস্তি? এটা সংরক্ষণের চুরি’ এবং ‘অনগ্রসর শ্রেণী কমিশন স্বীকার করেছে যে সংরক্ষণ একটি প্রতারণা’র মতো স্লোগান দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই লড়াই থামবে না; হয় তাঁরা চাকরি পাবেন, নতুবা তাঁদের শবদাহের মুখোমুখি হতে হবে।