বিহার বিধান পরিষদে এনডিএ জোটে ফাটল! টিকিট বণ্টন নিয়ে শাসক শিবিরের অন্দরেই প্রবল বিদ্রোহ

বিহার বিধান পরিষদের আসন্ন ৮টি আসনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাসক জোট এনডিএ-র অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও প্রকাশ্য বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যেই শাসক শিবিরের শরিক দলগুলির এই প্রকাশ্য বিরোধ জোটের শীর্ষ নেতৃত্বকে বড়সড় অস্বস্তিতে ফেলেছে। এর আগে জনতা দল ইউনাইটেড বা জেডিইউর হেভিওয়েট নেতা তথা মোকামার বিধায়ক অনন্ত सिंह নিজের দলের অফিসিয়াল প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জন সুরাজ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছিলেন। এবার সেই একই পথে হেঁটে জাতীয় লোক মোর্চা বা RLM-এর তিনজন বিধায়ক সরাসরি এনডিএ প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে এক নির্দল প্রার্থীর সমর্থনে প্রকাশ্য মাঠে নেমেছেন।
জানা গেছে, সারান শিক্ষক নির্বাচন আসনে জেডিইউ তাদের প্রার্থী হিসেবে আনন্দ পুষ্করকে ময়দানে নামিয়েছে। কিন্তু এই আসনে এনডিএ-র সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে RLM-এর তিন বিধায়ক—আলোক সিং, মাধো আনন্দ এবং রামেশ্বর महतो—নির্দল প্রার্থী রামপুকুর সিনহার মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সশরীরে উপস্থিত হন। শুধু তাই নয়, তিন বিধায়ক একসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে রামপুকুর সিনহার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেছেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে RLM প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন যে, গোটা রাজনৈতিক বায়ুমণ্ডলেই এখন একটা নেশা কাজ করছে, যার জেরে অনেকেই হিতাহিত জ্ঞান হারাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে জেডিইউ বিধায়ক অনন্ত সিং পাটনা স্নাতক আসনে নিজের দলের প্রার্থী নীরজ কুমারের বিরুদ্ধে মুখ খুলে জন সুরাজের প্রার্থী ড. অনুজ কুমার সিংকে সমর্থন জানান। এই পরিস্থিতিতে এনডিএ জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে মাঠে নামতে হয়েছে জেডিইউর শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিংকে। আগামী ২৩ অক্টোবর এই ৮টি আসনে ভোটগ্রহণ এবং ২৭ অক্টোবর ফলাফল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে যখন বিরোধী মহাজোট আসন সমঝোতা নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এনডিএ শিবিরের অন্দরে এই অনাস্থা ও ভেদাভেদ ভোটের বাক্সে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।