হিন্দু শাস্ত্র ও সনাতন ধর্মে পবনপুত্র হনুমানজির জন্মতিথি বা হনুমান জয়ন্তীর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে উত্তর ভারতে চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে অত্যন্ত ধুমধাম করে এই উৎসব পালিত হয়। তবে ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, হনুমান জয়ন্তীর সঠিক তারিখ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকে ১ এপ্রিল আবার অনেকে ২ এপ্রিল উৎসব পালনের কথা বলছেন। শাস্ত্রীয় পঞ্জিকা এবং উদয়া তিথি বিচার করে আজ আমরা আপনাকে জানাব সঠিক নির্ঘণ্ট।
২০২৬ সালে হনুমান জয়ন্তী কবে? জ্যোতিষশাস্ত্র এবং বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে চৈত্র পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে ১ এপ্রিল, বুধবার সকাল ৭টা ০৮ মিনিটে। এই তিথি শেষ হবে ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে। যেহেতু হিন্দু ধর্মে উৎসব পালনের ক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের সময়কার তিথি বা ‘উদয়া তিথি’র গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাই ২০২৬ সালে হনুমান জয়ন্তী পালিত হবে ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার।
পুজোর শুভ মাহেন্দ্রক্ষণ ও মাহাত্ম্য: ২ এপ্রিল সূর্যোদয়ের সময় থেকেই পূর্ণিমা তিথি বিদ্যমান থাকায় ওই দিন সকাল থেকেই ভক্তরা পুজোর সংকল্প করতে পারবেন। বিশেষ করে সকাল ৭টা ৪১ মিনিটের মধ্যে মূল পুজো সেরে নেওয়া অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ওই দিনটি বৃহস্পতিবার হওয়ায় হনুমানজির পরম আরাধ্য শ্রী রামচন্দ্রের আশীর্বাদও ভক্তদের ওপর বর্ষিত হবে। মনে করা হয়, এই বিশেষ দিনে হনুমান চালিসা পাঠ এবং বজরংবলীকে সিঁদুরের চোল চড়ালে জীবনের সমস্ত বাধা ও নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।
পুজোর নিয়মাবলী: ভক্তদের উচিত ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান সেরে পরিষ্কার লাল বা গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করা। মন্দিরে বা বাড়িতে হনুমানজির মূর্তির সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে লাল ফুল, কলা এবং লাড্ডু নিবেদন করুন। সংকটমোচনের কৃপা পেতে এদিন সুন্দরকাণ্ড পাঠ করা অত্যন্ত শুভ।