তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন এখন তুঙ্গে। এরই মধ্যে তৃণমূলের যুব সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতিদের একটি তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সরাসরি সায়নী ঘোষকে আক্রমণ করলেন সৌম্য বক্সী। সায়নীকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি।
সৌম্যর পোস্টের সারমর্ম: ফেসবুক স্টোরিতে ১৯৯৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত যুব তৃণমূলের সভাপতিদের একটি তালিকা তুলে ধরেন সৌম্য। সেই তালিকায় সুব্রত বক্সী, মদন মিত্র, শুভেন্দু অধিকারী, সৌমিত্র খাঁ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করার পর তিনি সায়নী ঘোষের বিষয়ে লেখেন— “২০২১ থেকে সায়নী ঘোষ (হঠাৎ করে একটি সংগঠনের মাথা হয়ে গেলেন, যেটার কোনওদিন অংশই ছিলেন না)।” সৌম্যর এই পোস্ট যে সায়নীকে তীব্র কটাক্ষ করার উদ্দেশ্যে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনো সন্দেহ নেই।
সায়নীর বর্তমান অবস্থান: সায়নী ঘোষ এই মুহূর্তে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তালিকায় রয়েছেন বলে খবর। সম্প্রতি তাঁকে সুস্মিতা দেবের সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরে দেখা গিয়েছে। ছকভাঙা সাজপোশাক ছেড়ে এদিন মাস্ক, টুপি ও সানগ্লাসে নিজেকে আড়াল করেছিলেন অভিনেত্রী-সাংসদ। সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান তিনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: সবুজ শিবিরের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যেই সৌম্য বক্সীর মতো একজন নেতা, যাঁর পারিবারিক ও কর্মসূত্রে দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে, তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিধানসভা ভোটের টিকিট না পাওয়া নিয়ে অতীতে বক্সী পরিবারের ক্ষোভের কথা শোনা গিয়েছিল, এবার সরাসরি সায়নীকে আক্রমণ করায় সেই সংঘাত আরও স্পষ্ট হলো।
তৃণমূল যখন একাধিক সাংসদ ও বিধায়কের বিদ্রোহের মোকাবিলা করছে, তখন দলের অন্দরের এই আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সায়নী ঘোষের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





