মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে ফের নাটকীয় মোড়! ঘটা করে ঘোষণা করেও শেষ মুহূর্তে জেলা পুলিশ সুপারের (SP) অফিস ঘেরাও কর্মসূচি থেকে সরে এলেন বিতর্কিত নেতা হুমায়ুন কবীর। তাঁর এই আকস্মিক ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি স্রেফ পিছু হঠা, নাকি পর্দার আড়ালে অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক ছক কষছেন জেইউপি (JUP) প্রধান?
কর্মসূচি বাতিলের নেপথ্যে কী? গত কয়েকদিন ধরেই বেলডাঙা ও তৎসংলগ্ন এলাকার ইস্যু নিয়ে এসপি অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়ে জেলা প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু শনিবার সেই কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। সূত্রের খবর:
-
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে কোনো গোপন আলোচনা বা মৌখিক আশ্বাসের কারণেই কি এই সিদ্ধান্ত?
-
আইনি জটিলতা: জমায়েতের অনুমতি না পাওয়া বা আইনি বিপাকে পড়ার আশঙ্কা থেকেও কি তিনি পিছিয়ে এলেন?
-
রণকৌশল বদল: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি সংঘাতের বদলে হুমায়ুন হয়তো এখন অন্য কোনো পথে প্রশাসনকে চাপে রাখতে চাইছেন।
বিরোধীদের কটাক্ষ: হুমায়ুনের এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “হুঙ্কার দেওয়া আর কাজ করা এক নয়। পুলিশের সঙ্গে তলে তলে সমঝোতা হয়েছে বলেই আজ ঘেরাও কর্মসূচি থেকে পালানো হলো।” অন্যদিকে, তৃণমূল শিবির থেকেও এই নিয়ে বিশেষ প্রতিক্রিয়া মেলেনি, যা জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
হুমায়ুনের প্রতিক্রিয়া: কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে এলেও হুমায়ুন কবীর অবশ্য তাঁর সুর নরম করেননি। তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, এটি কেবল সময়ের পরিবর্তন, লড়াই থামছে না। আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতেই এই সাময়িক বিরতি।
এডিটরের নোট: মুর্শিদাবাদের মাটিতে হুমায়ুন কবীরের এই ‘পিছু হঠা’ কি শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে, নাকি বিধানসভা ভোটের আগে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত? সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।