উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ডুয়ার্স এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর করোনেশন সেতু বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। ৬.৭ মিটার প্রস্থের এই সংকীর্ণ সেতুটির কাঠামোতে দীর্ঘদিনের ব্যবহারে একাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যানবাহন চলাচল বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায়, করোনেশন সেতুর একটি বিকল্প এখন সময়ের দাবি।
শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সেবকে অবস্থিত এই সেতুটি ১৯৪১ সালে ষষ্ঠ জর্জের রাজ্যাভিষেকের স্মরণে নির্মিত হয়েছিল। জাতীয় সড়ক ৩১সি-এর উপর অবস্থিত এই সেতুটি সিকিমের চীন সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নয়াব্রিজ: ১১২৫ কোটি টাকা ও ৪ লেন
বর্তমান সংকীর্ণ সেতুটির বিকল্প হিসেবে যে নতুন সেতুর প্রস্তাব করা হয়েছে, তার আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ১,১২৫ কোটি টাকা। প্রস্তাব অনুসারে, নতুন সেতুটি সেবকে বিদ্যমান রেল সেতুর সমান্তরালে চলবে এবং এর প্রস্থ কমপক্ষে ১৪ মিটার হবে, যাতে এটি চার লেনের যান চলাচল সামলাতে পারে।
সূত্র জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সম্প্রতি বন ও পরিবেশ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যাতে নতুন সেতু প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র নিশ্চিত করা যায়।
ডুয়ার্সবাসীর জোর দাবি: ‘ডুয়ার্স ফোরাম’-এর আন্দোলন
‘হচ্ছে, হবে’ নয়, দ্রুত এই নতুন সেতু বানানোর কাজ পাকাপাকিভাবে শুরু হোক—এই দাবিতে ডুয়ার্সের সাধারণ মানুষ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সোচ্চার হয়েছেন। এই দাবিতে সওয়াল করতে তৈরি হয়েছে ‘ডুয়ার্স ফোরাম ফর সোশ্যাল রির্ফমস’ নামে একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ।
এই সংগঠনের বক্তব্য, ব্রিটিশ আমলে বানানো এই সেতুটির মেয়াদ প্রায় শেষ। সেতুর শরীরে একাধিক জায়গায় ফাটল ধরা পড়েছে, বিশেষ করে পিলারগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংগঠনের আশঙ্কা, কোনোভাবে এই সেতু আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিলিগুড়ির সাথে ডুয়ার্স এবং এমনকি ভুটানের যোগাযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
সেনা চলাচল নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমানে করোনেশন সেতুর উপর দিয়ে ১০ টনের বেশি ওজনের গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এখানেই বড় প্রশ্ন উঠছে—যে সেতু ডুয়ার্সের লাইফলাইন, তার উপর দিয়ে যদি ভারী যান চলাচল করতে না পারে, তবে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সেনাবাহিনীর গাড়ি যাতায়াত করবে কীভাবে?
সংগঠনের অন্যতম সদস্য চন্দন রায় বলেন, “এখন না হয় মালবাজারে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভালো করা হয়েছে। কিন্তু অনেক সময়েই রোগীকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করতে হয়। করোনেশন সেতু ও তার সংযোগকারী রাস্তার যা হাল, তাতে প্রতিদিনই নানা বিপদের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। ল্যান্ডস্লাইড হলে তো কথাই নেই, দীর্ঘ যানজটে ডুয়ার্সের মানুষের যাতায়াত একেবারে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই প্রতিশ্রুতি বা হচ্ছে, হবে নয়, দ্রুত দ্বিতীয় সেবক ব্রিজের কাজ শুরু করা হোক।”





