স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা—দক্ষিণ ত্রিপুরাবাসীর জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধন বহু প্রকল্পের

রাজ্যের বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান এবং সকল অংশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধনে সর্বদাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে চলেছে। সমাজের একেবারে অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য, আর এর মাধ্যমেই রাজ্যে প্রকৃত ও স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানীয়জল ও যোগাযোগ পরিকাঠামো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকার লাগাতার উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছে। শুক্রবার দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার পিএম শ্রী তইকর্ম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মোট ১৭৯ কোটি ৮ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি মোট ২৩টি সম্পূর্ণ হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করেন, যেগুলি রূপায়ণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি, দক্ষিণ ত্রিপুরার মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণে আরও ১২টি নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়াল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যেগুলি নির্মাণে মোট খরচ হবে ১৪২ কোটি ৬৩ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা। মূলত স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৪টি প্রকল্প, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ১১টি প্রকল্প, পূর্ত দপ্তরের ৪টি এবং জনজাতি অংশের মানুষের উন্নয়নের জন্য ৬টি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার, সাব্রুম এবং বিলোনীয়া মহকুমার বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষ এই মেগা প্রকল্পগুলির মাধ্যমে অত্যন্ত বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আমূল বদলে দিতে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এবং একটি আধুনিক ট্রমা সেন্টার চালু করা হয়েছে। এছাড়া শান্তিরবাজার রাবার পার্কের সামগ্রিক উন্নয়নে ৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সাব্রুমের স্পেশাল ইকোনোমিক জোনে লগ্নি করতে দেশ-বিদেশ থেকে বরেণ্য শিল্পপতিরা এগিয়ে আসছেন। লধুয়া চা বাগানে বড়সড় লার্জ সোলার পাওয়ার প্যানেল বসানোর পাশাপাশি বিলোনীয়ায় মুহুরি নদীর ওপর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

শিল্প ও পর্যটন খাতের অগ্রগতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে মোট ৪০৬ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। ত্রিপুরায় বর্তমানে শিল্প স্থাপনের জন্য এক অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভে ১২০০ জন স্বনামধন্য শিল্পপতি উপস্থিত থেকে রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিগত এক বছরের মধ্যে গোটা রাজ্যে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এমনকি ঐতিহাসিক পুষ্পবন্ত প্রাসাদকে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্যালেস হোটেলে রূপান্তরিত করার জন্য ইতোমধ্যে মৌ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে প্রায় দু’শ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটক ও শিল্পপতিদের আগমনে রাজ্যের পর্যটন অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

শিক্ষার অগ্রগতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, নতুন নতুন স্কুল ভবন, ছাত্রাবাস নির্মাণ এবং স্মার্ট ক্লাসরুম চালুর মাধ্যমে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে সাইকেল, স্কুটি, মোবাইল ফোন ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের পাশাপাশি জনজাতি শিক্ষার্থীদের জন্য ২১টি একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল স্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রায় ৩ লক্ষ ৭৬ হাজার পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।