“সেক্সুয়াল ট্র্যাপে ফেলে বড় প্ল্যান!”-জঙ্গি হামিমের বান্ধবীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে!

জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলের গ্রেপ্তারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারের হদিশ মিলল। শুক্রবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা STF-এর জালে ধরা পড়েছে অর্পিতা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হানিট্র্যাপের (Honeytrap) মতো বিপজ্জনক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জোগাড় করা এবং অপহরণের মতো ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ ছিল এই অর্পিতার কাজ। এই ঘটনার নেপথ্যে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক বা দেশজোড়া চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।

কীভাবে জালে এল অর্পিতা?

STF সূত্রে খবর, জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে টানা জেরা করার পরই তার বান্ধবী অর্পিতার নাম উঠে আসে। জেরায় হামিম এই পুরো নাশকতার ছক এবং চক্রে অর্পিতার সুনির্দিষ্ট ভূমিকার কথা স্বীকার করে। এরপরই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে শুক্রবার রাতে ঝাড়খণ্ডে অভিযান চালায় এসটিএফ-এর একটি বিশেষ দল। সাহেবগঞ্জ থেকে অর্পিতাকে পাকড়াও করার পর রাতেই তাকে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবার তাকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।

কী কাজ করত অর্পিতা?

তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রে অর্পিতা ছিল মূল ‘টোপ’। হানিট্র্যাপের ফাঁদ পেতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিশানা করাই ছিল তার কাজ। যৌনতার লোভ দেখিয়ে বা ফাঁদে ফেলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য হাতিয়ে নিত সে। এরপর সেই সমস্ত তথ্য পৌঁছে দিত তার ‘বয়ফ্রেন্ড’ তথা ধৃত জঙ্গি হামিমের কাছে। এখন অর্পিতাকে সামনে বসিয়ে হামিমকে কাউন্টার জেরা করে সমস্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে চাইছেন গোয়েন্দারা।

মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় কে?

পূর্ব বর্ধমানের কুসুমগ্রামের বাসিন্দা হামিম হাওড়ার পিলখানায় একটি জামাকাপড় তৈরির কারখানায় বারকোড লাগানোর কাজ করত। তবে আড়ালে সে যে গভীর নাশকতামূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। নিউটাউনেও তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর নির্দেশেই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি এবং আরএসএস (RSS) নেতাদের গতিবিধি ও খবরাখবর সংগ্রহ করার ছক কষেছিল এই হামিম। এমনকী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও তার প্রধান টার্গেটদের মধ্যে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

হামিমের মোবাইল ও ল্যাপটপ ঘেঁটে শুভেন্দু-সহ একাধিক হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের গতিবিধি সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। জানা গেছে, শুভেন্দু অধিকারী যে নির্দিষ্ট রুট ধরে নিউটাউনের ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন, সেখানে সশরীরে গিয়ে রেকিও করেছিল এই হামিম।

কী প্রতিক্রিয়া শুভেন্দু অধিকারীর?

এই স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী খুব মেপে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি জানান, “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগ রয়েছে এবং বিষয়টি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। ধৃতের মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কী কী তথ্য উঠে আসছে, তা গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন।” এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারির বিষয়ে শনিবার এসটিএফের তরফ থেকে একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করার কথাও রয়েছে।