স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দেশ! কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ফেল করল ৯৭টি ওষুধ, মিলল ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক

দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মান নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের (Central Drug Control) গুণমান যাচাইয়ের পরীক্ষায় এক বিশাল সংখ্যক ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ইনজেকশন এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম একসঙ্গে ফেল করেছে। প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মোট ৯৭টি ওষুধ এবং সরঞ্জাম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। ওষুধের পর এবার চিকিৎসা সরঞ্জামের ‘মার্কশিটেও লাল কালির দাগ’ পড়ল।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামেও গুণগত মান ব্যর্থ
পরীক্ষায় ফেল করা সামগ্রীগুলোর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম—বিভিন্ন কোম্পানির ক্যাথিটার, স্যালাইন এবং তরল ওষুধ শরীরে প্রবেশ করানোর ইনফিউশন সেট।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বিভাগীয় প্রধান সৌমিত্র ঘোষ এই খবর শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা তো সব কিছু স্টেরিলাইজ করি, কিন্তু প্যাকেটের ভিতরের জিনিস যদি এরকম থাকে, তাহলে তো ভয়াবহ!”
কোথায় কী ত্রুটি?
কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। পরীক্ষায় ধরা পড়া গুরুতর ত্রুটিগুলো হলো:
মাত্রায় হেরফের: একাধিক ওষুধের মোড়কে লেখা বিবরণের সঙ্গে ওষুধের মাত্রায় বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। আবার কোথাও ওষুধের পরিমাণই কম।
ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া: কোনও কোনও ইঞ্জেকশনের ভায়ালে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে।
বিশুদ্ধতার অভাব: কিছু ওষুধ পরিশোধিত জল দিয়ে বানানো হয়নি।
জালিয়াতি: তিনটি ওষুধ আবার নামী সংস্থার ব্র্যান্ড নেম জাল করে বাজারে ছাড়া হয়েছে।
ফেল করা তালিকায় কী কী ওষুধ রয়েছে?
পরীক্ষায় ফেল করা ওষুধগুলোর তালিকায় রয়েছে সাধারণ ও জীবনদায়ী বহু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, স্যালাইন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ অ্যামলোডিপিন, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ওষুধ অ্যামিকাসিন, প্যারাসিটামল, চোখের ড্রপ, কিডনির অসুখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইঞ্জেকশন, ডায়ারিয়া এবং বমি বন্ধের ওষুধ, প্যান্টোপ্রাজল, অ্যাসপিরিন এবং অক্সিটোসিন।
শুধু ওষুধ নয়, নমুনা পরীক্ষায় মেহেন্দিতে মিলেছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক এবং জাল অ্যালোভেরা সাবানেরও হদিশ মিলেছে।
বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ও উৎপত্তি স্থল
যেসব ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম গুণমান যাচাইয়ের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ফেল-করা ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগ গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের।
গত মাসেও ব্লাড ক্যান্সারের ওষুধ থেকে শুরু করে অ্যান্টিবায়োটিক ও ভিটামিন C ইঞ্জেকশনের ভায়ালে দূষিত পদার্থের মতো একাধিক বড় ত্রুটি ধরা পড়েছিল। বারবার এমন ঘটনায় দেশের ওষুধ ও স্বাস্থ্য সরঞ্জামের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।