স্বাস্থ্যসাথী কার্ড কি তবে বাতিল? আয়ুষ্মান ভারতে নাম জুড়লেই কী করতে হবে? বিরাট বার্তা দিলেন শুভেন্দু

চিকিৎসার জন্য দেশের প্রতিটি গরিব পরিবারকে প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর সরকার। শুক্রবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি মনোনীত প্রার্থী হাঁসিরানী রথের সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্প নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের সভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, যাঁদের নাম এখনও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নথিভুক্ত হয়নি বা যাঁরা এতদিন ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড ব্যবহার করতেন, তাঁদের ঠিক কী করণীয়।
স্বাস্থ্যসাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত: কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?
এদিনের জনসভা থেকে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এতদিন সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মাত্র ১৭০০টি হাসপাতালে এই পরিষেবা পাওয়া যেত, আর ভেলোর বা কটকের মতো বড় শহরের অনেক হাসপাতালেই তা চলত না।
পক্ষান্তরে, আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ১৯০০ এবং সারা ভারতের প্রায় ৩৮ হাজার হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। ব্যাঙ্গালোর থেকে শুরু করে মুম্বাইয়ের নামী ক্যানসার হাসপাতালেও এই কার্ডের মাধ্যমে নিখরচায় চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাবেন রোগীরা।
যাঁরা বর্তমানে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ব্যবহার করছেন, তাঁদের উদ্দেশে শুভেন্দু স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, যতদিন না আয়ুষ্মান ও নতুন স্বাস্থ্য স্কিমে সম্পূর্ণ এনরোলমেন্ট বা নাম নথিভুক্তিকরণ হচ্ছে, ততদিন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চালু থাকবে। এরপর আয়ুষ্মানের পোর্টালে নাম চলে গেলেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের পাট চুকে যাবে।
কারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা?
প্রধানত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিই সরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে:
ভূমিহীন ও দিনমজুর পরিবার।
তফসিলি জাতি ও জনজাতিভুক্ত পরিবার, যাদের কাঁচা বাড়ি বা এক কামরার ঘর রয়েছে।
যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কোনো সক্ষম বা রোজগেরে পুরুষ সদস্য নেই।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বড় বার্তা
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পাশাপাশি এদিনের সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বড় প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ এবং শুধু নন্দীগ্রামেই ৭০ হাজার ৩০০ জন বোনকে অন্নপূর্ণার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বাকি যোগ্য উপভোক্তাদেরও খুব শীঘ্রই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শেষ করে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্যের কাউকেই বঞ্চিত করা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।