“স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করেছিল পুলিশ!” আরজি করে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই তোপ দাগলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৯তম জাতীয় ছাত্র সম্মেলনে যোগ দিতে এসে শুক্রবার এক বিস্ফোরক ও উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্ম দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) মেডিক্যাল পড়ুয়াদের সংগঠন ‘মেডেভিশন’-এর এই বিশেষ মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভয়া কাণ্ডের তদন্তে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে চরম দুর্নীতি ও অবহেলার অভিযোগ তোলেন তিনি। এদিনের এই হাই-প্রপ্রাইল অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই উপস্থিত ছিলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ, যাঁকে প্রথম দিন থেকেই পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “প্রথম দিন থেকেই আমি অভয়ার পরিবারের সঙ্গে আছি। রত্না দেবনাথকে আমার প্রণাম জানাই। অভয়ার মা কিছু গভীর অসুবিধার কথা প্রকাশ করেছেন। পরিবার প্রথমে হাইকোর্টে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চরম অভিযোগ দায়ের করে, যার ভিত্তিতে আদালত সঙ্গে সঙ্গে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়।” তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, “এই সমস্ত ঘটনা তৎকালীন এক্স চিফ মিনিস্টার এবং এক্স পুলিশ মিনিস্টারের সরাসরি ইশারায় ঘটেছিল। আরজি করের ভেতরে একটা শক্তিশালী দুর্নীতি চক্র চলত। আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি এবং ইতিমধ্যেই দুর্নীতিতে যুক্ত একাধিক চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।”

তদন্তের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিবারের সই ছাড়াই তড়িঘড়ি শ্মশানে মৃতদেহ দাহ করা হয়েছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়। শেখর দেবনাথের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নির্মল ঘোষ-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আইন ও বিচার ব্যবস্থার সমস্ত নিয়ম মেনে সরকারের এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে অভয়ার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অন্যদিকে, এদিনের সম্মেলনে এসে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে মুখ খোলেন অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে এবং মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই বসে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সিবিআই যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছিল, তা আমি মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েছি। তবে মেডিক্যাল কাউন্সিলে যাঁরা অতীতে ছিলেন, তাঁরা এখনও পদে বহাল রয়েছেন। আমার মেয়ের যদি সঠিক বিচার হয়, তবেই স্বাস্থ্য দফতরের এই ব্যাপক দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ হবে। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যে সমস্ত পুলিশকর্মী বেআইনিভাবে কাজ করেছিল, তাদের অবিলম্বে না সরালে আসল সত্যি সামনে আসবে না। স্বাস্থ্য দফতরের জাস্টিস ও ভয়ের বাতাবরণ দূর করতে গেলে আমার মেয়ের অপরাধীদের চরম শাস্তি দিতেই হবে।” সব মিলিয়ে, আরজি করের মঞ্চ থেকে ওঠা এই জোড়া বিস্ফোরণে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ফের চড়ে গেছে।