চণ্ডীগড়/অমৃতসর: দেশজুড়ে দিওয়ালির উৎসবের আবহে পাঞ্জাবের অমৃতসরে শিখদের পবিত্রতম ধর্মস্থান স্বর্ণ মন্দির (হরমন্দির সাহিব) প্রাঙ্গণ সেজে উঠেছে আলোর রোশনাইতে। দিওয়ালির পাশাপাশি শিখ সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ‘বন্দি ছোড় দিবস’ (Bandi Chhor Diwas) উপলক্ষে সোমবার এই মন্দির কমপ্লেক্সকে আলোকিত করা হয়।
এদিন সকাল থেকেই স্বর্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে উৎসবের মেজাজ শুরু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ প্রার্থনা জানাতে এবং আশীর্বাদ নিতে সেখানে ভিড় করেছেন।
বন্দি ছোড় দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
শিখদের কাছে ‘বন্দি ছোড় দিবস’-এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। এই দিনটি শিখদের ষষ্ঠ গুরু, গুরু হরগোবিন্দ (Guru Hargobind) এবং তাঁর সঙ্গে আরও ৫২ জন রাজকুমারকে ১৬১৯ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার স্মৃতি বহন করে।
দিওয়ালি উৎসব চলাকালীন গুরু হরগোবিন্দ অমৃতসরে ফিরে আসেন। সেই থেকে দিওয়ালি এবং বন্দি ছোড় দিবসের উদযাপন স্বর্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে একসঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। পাঞ্জাবের গুরুদ্বারা এবং অন্যান্য শহরগুলিতেও উৎসবের পরিবেশ দেখা যায়।
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
বন্দি ছোড় দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান জনগণকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তবে এই উৎসবের তারিখ নিয়ে পাঞ্জাবে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পাঞ্জাব সরকারের অফিসিয়াল ক্যালেন্ডারে ২০ অক্টোবর দিওয়ালির ছুটি ঘোষণা করা হলেও, বহু ধর্মীয় সংগঠন ২১ অক্টোবর উৎসবটি পালন করবে।
পরিবেশবান্ধব দিওয়ালির আবেদন
পাঞ্জাব মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা দিওয়ালির শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, এই উৎসব মিথ্যা ও অন্ধকারের ওপর সত্য ও আলোর জয়ের প্রতীক। এটি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
পাশাপাশি, তাঁরা একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানান: পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন দিওয়ালি’ উদযাপন করা হোক। মন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন, দূষণ একটি গুরুতর উদ্বেগ, যা সকলকে প্রভাবিত করে। তাই উৎসবের সময় বাজি পোড়ানো কমিয়ে পরিবেশবান্ধব অনুশীলন গ্রহণ করার জন্য তাঁরা নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।