স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ৪২ লক্ষ টাকার গরমিল! আধিকারিককে ঘিরে তুলকালাম বুদবুদে

সুখডাল এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে একটি চাঞ্চল্যকর আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে। গলসি ১ নম্বর ব্লকের ‘সোনার তরী মহিলা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’-এর প্রায় ৪২ লক্ষ টাকার কোনো সঠিক হিসাব মিলছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমবায়ের আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতিমধ্যেই গোষ্ঠীর আধিকারিক সীমা দেবকে ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ক্ষুব্ধ সদস্যারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলসি ১ নম্বর ব্লকের এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে এলাকার বহু মহিলা দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক অডিট রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সদস্যদের দাবি, ২০২৪ সাল পর্যন্ত হওয়া অডিটে প্রায় ৪২ লক্ষ টাকার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এই বিপুল পরিমাণ টাকার গরমিল সামনে আসতেই সদস্যরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সংস্থার সমস্ত আর্থিক হিসাব এবং অডিট রিপোর্ট অবিলম্বে প্রকাশের জোরালো দাবি তুলেছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা নিতু ম্যাকানজি, রমা রুইদাস এবং শম্পা দাস এই ঘটনার নেপথ্যে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কোথা থেকে কত টাকা এসেছে, কোথায় সেই টাকা খরচ হয়েছে এবং বর্তমানে তহবিলে কত টাকা মজুত রয়েছে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গোষ্ঠীর সদস্যা তথা গলসি ১ নম্বর ব্লকের বিজেপির মহিলা মোর্চা নেত্রী কামেনি বণিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই আধিকারিক তখনও পদে ছিলেন, এখনও বহাল তবিয়তে আছেন। কিন্তু আমাদের কষ্টের টাকার কোনো সঠিক হিসাব আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। ৪২ লক্ষ টাকা কোথায় গেল, তার জবাব দিতেই হবে। গরিব মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের এই তছরুপ আমরা কিছুতেই মেনে নেব না।” তিনি আরও জানান যে এই পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এদিকে, এই গোটা ঘটনায় অভিযুক্ত আধিকারিক সীমা দেবের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। উলটে তাঁর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনিক স্তরে এই আর্থিক গরমিলের তদন্ত শুরু না হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমবায়ের মহিলারা।