স্পিকার পদে আসছে নতুন মুখ! মহানাটকের পর কর্নাটকের ক্ষমতার অলিন্দে বিরাট চমক কংগ্রেসের

দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং নানা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজই সম্পন্ন হতে চলেছে কর্ণাটকের বহুচর্চিত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ। কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই মন্ত্রিত্বের জন্য ২০ জনের একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কর্ণাটক বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে অভিজ্ঞ নেতা জি এস পাটিলের নামও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে দলের হাইকম্যান্ড। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে দলের ভিত আরও শক্ত করতে এবং আঞ্চলিক ও সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আজ বিকেল ৪টে নাগাদ নতুন মন্ত্রীদের রাজভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার আগে এই কুড়ি জনের চূড়ান্ত তালিকা রাজ্যপাল থাওয়ার চাঁদ গেহলোতের কাছে পাঠিয়ে অনুমোদন নেবেন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। গত ৩ জুন শিবকুমার সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী সহ সর্বাধিক ৩৪ জন মন্ত্রী থাকার কথা থাকলেও, এতদিন মন্ত্রিসভায় ২০টি পদ শূন্য পড়েছিল। ফলে নতুন এই সংযোজনের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্ষমতা ও প্রশাসনিক গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আজকের এই কুড়ি সদস্যের চূড়ান্ত নতুন তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন পি এম নরেন্দ্রস্বামী, শিবরাজ তঙ্গাদাগি, রুদ্রাপ্পা লামানি, কে এস বাসবন্থাপ্পা, বি নাগেন্দ্র, টি রঘুমেূর্তি, বি জেড জামের আহমেদ খান, রেজওয়ান আরশাদ, সন্তোষ লাড, বঙ্গারাপ্পা, পুত্তুরঙ্গশেট্টি, মানকালা বৈদ্য, অজয় সিং, এন চালুভারয়া স্বামী, কে এম শিবলিঙ্গে গৌড়া, এইচ সি বালকৃষ্ণ, গায়ত্রী শান্তেগৌড়া, বাসবরাজ রায়া রেড্ডি, বিজয়ানন্দ কাশপ্পানবর এবং লক্ষ্মণ সাওয়াদির মতো হেভিওয়েট নেতারা। শুধু মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণই নয়, বিধানসভার স্পিকার পদেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ইউ টি খাদের গত জুন মাসেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিত্বে যোগ দেওয়ায়, এবার নতুন স্পিকার হিসেবে জি এস পাটিলের নাম মনোনীত করা হয়েছে।
দিল্লি সূত্রে প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, গত শুক্রবারই এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও বিভিন্ন জাতি, উপজাতি, ধর্ম ও আঞ্চলিক সমীকরণ নিখুঁতভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করার কারণেই তা কিছুটা পিছিয়ে যায়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকে সমস্ত সামাজিক গোষ্ঠী ও ভৌগোলিক অঞ্চলের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। দিল্লির ওই উচ্চপর্যায় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার ছাড়াও কে সি বেণুগোপাল, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এবং কর্ণাটক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ উপস্থিত ছিলেন। এখন সকলের নজর রাজভবনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এবং এই নতুন মন্ত্রিসভা রাজ্যের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিকে কতটা প্রভাবিত করে, সেদিকেই।