স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ নেই, হাইকোর্টে বড় অস্বস্তিতে তৃণমূল, ঋতব্রতর জয়জয়কার?

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি যেন কাটছেই না। বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জীকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বুধবার মামলার শুনানি শেষে আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। ফলে আপাতত বিরোধী দলনেতার পদেই বহাল থাকছেন ঋতব্রত ব্যানার্জী।

হাইকোর্টে কী উঠে এল? এই মামলার শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্মতির বাইরে গিয়ে বিধানসভার স্পিকার কি আদৌ কোনো বিধায়ককে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারেন? নাকি এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও মতামতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া বাঞ্ছনীয়? এই সাংবিধানিক প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়েছে আদালত। আগামী ১৬ জুন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ ঘোষণার পর ৫৯ জন বিধায়ককে নিয়ে পৃথক গোষ্ঠী তৈরি করেন ঋতব্রত ব্যানার্জী। বিধানসভার স্পিকার এই গোষ্ঠীকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা প্রদান করেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের যুক্তি: তৃণমূলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি দাবি করেন, স্পিকারের এই পদক্ষেপ দলত্যাগ বিরোধী আইনের পরিপন্থী। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৬ মে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের কথা বিধায়কদের স্বাক্ষরিত তালিকা সহ স্পিকারকে একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও তা গ্রাহ্য করা হয়নি বলে অভিযোগ।

আপাতত আদালতের এই পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করেই ১৬ জুনের শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy