স্কুলে জাঙ্ক ফুড চলবে না! পড়ুয়ার আবদারে যে মিষ্টি অথচ কড়া বার্তা দিলেন মহারাষ্ট্রের FDA কমিশনার

স্কুলের ক্যান্টিন থেকে জাঙ্ক ফুড চিরতরে বিদায় করার এক যুগান্তকারী ও কড়া পদক্ষেপ করে বর্তমানে দেশজুড়ে চর্চায় রয়েছেন মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)-এর কমিশনার তথা আইএএস (IAS) অফিসার তুকারাম মুন্ডে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ঝড় তুলেছে, যেখানে এক স্কুলপড়ুয়া ছাত্র সরাসরি কমিশনারের মুখোমুখি হয়ে স্কুলে পুনরায় ‘বড়া পাও’ পরিবেশন চালু করার আবেদন জানায়। শিশুটির এই সরল অনুরোধের উত্তরে অত্যন্ত স্নেহপূর্ণ অথচ অটল মনোভাব নিয়ে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ভয়াবহ বিপদগুলি বুঝিয়ে দেন ওই শীর্ষ আধিকারিক। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর এই ব্যতিক্রমী ও শিক্ষণীয় বোঝানোর ভঙ্গি নেটিজেনদের মন জয় করেছে।
ভাইরাল হওয়া ওই কথোপকথনে ছাত্রটিকে বলতে শোনা যায়, “স্কুলে বড়া পাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু আমি ও আমার বন্ধুরা চাই এটি আবার চালু হোক। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?” এর উত্তরে অত্যন্ত স্নেহের সুরে তুকারাম মুন্ডে বলেন, “আমরা বড়া পাও না খেলেও জীবন থেমে থাকবে না। বরং তোমরা যদি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাও, তবে তোমাদের শারীরিক বৃদ্ধি অনেক ভালো হবে।” তিনি ডিপ ফ্রায়েড বা ডুবো তেলে ভাজা খাবারের ক্ষতিকর দিকগুলি তুলে ধরে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, ছাত্রটির কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তরে চিনা স্ট্রিট ফুডে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং ও মারাত্মক রাসায়নিকের বিরুদ্ধেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। স্বাদের চেয়ে সুস্বাস্থ্যকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়ার এই বার্তা সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, তুকারাম মুন্ডে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মহারাষ্ট্রজুড়ে এফডিএ একটি কঠোর নির্দেশিকা কার্যকর করেছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিনে এবং স্কুল চত্বরের ঠিক ৫০ মিটারের মধ্যে বড়া পাও, সামোসা, বার্গার, পিৎজা, চিপস এবং সোডার মতো অতিরিক্ত ফ্যাট, চিনি ও লবণযুক্ত (HFSS) সমস্ত জাঙ্ক ফুড ও কার্বনেটেড পানীয় বিক্রি, বিজ্ঞাপন ও বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি চীনা স্ট্রিট ফুডে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিক্যালের বিষয়েও কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের সমস্ত শিক্ষা পর্ষদের অধীন স্কুলগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য করা হয়েছে। নির্দেশিকা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত বা পুরোপুরি বাতিল করার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নিষিদ্ধ খাবার বাজেয়াপ্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন কর্তৃপক্ষকে এই নিয়ম বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বড়া পাও বা সমোসার মতো অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে স্কুলগুলির ক্যান্টিনে এখন ইডলি, দোসা, পোহা, উপমা, টাটকা ফল এবং ফ্রেস বাটার মিল্ক বা ঘোলের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন সন্তানদের প্রতিদিনের টিফিনে স্বাস্থ্যকর ও ঘরোয়া খাবার দিয়ে স্কুলে পাঠান। শৈশবকালীন স্থূলতা বা ওবেসিটির মতো মারাত্মক সমস্যা রুখতে আইএএস অফিসার তুকারাম মুন্ডের এই সাহসী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা দেশ।