কলকাতার টাঙরার ঐতিহ্যবাহী পেই মে চাইনিজ স্কুলে চিনা নববর্ষের উৎসব কি এবারও ফিকে হয়ে যাবে? আরজি কর হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানদের ক্যাম্প নিয়ে এবার রাজ্য সরকারকে বেনজির আক্রমণের মুখে পড়তে হল কলকাতা হাইকোর্টে। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি চিনা নববর্ষের আগেই স্কুল চত্বর খালি করার আর্জি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেই মামলায় সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের পর্যবেক্ষণ রাজ্য প্রশাসনের অস্বস্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিচারপতির কড়া প্রশ্ন ও ভর্ৎসনা: শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অত্যন্ত ক্ষুব্ধ স্বরে প্রশ্ন করেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার কী করছে? টাকা কোথায় যাচ্ছে?” প্রায় দেড় বছর ধরে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বিকল্প কোনো জায়গায় স্থানান্তরিত করা যায়নি, তা নিয়ে রাজ্যকে বিঁধেছে আদালত। বিচারপতি মন্তব্য করেন, “আমি কড়া নির্দেশ দিলে রাজ্য বিপদে পড়বে। সল্টলেকে সিআইএসএফ-এর নিজস্ব বড় কমপ্লেক্স থাকতেও কেন সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না? আমি কি জায়গা খুঁজে দেব?”
দেড় বছরের জট ও উৎসবের বাধা: আরজি কর কাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে ২০০ জন সিআইএসএফ জওয়ানকে পেই মে চাইনিজ স্কুলের ১৮টি ঘরে রাখার ব্যবস্থা করেছিল সরকার। প্রাথমিকভাবে দু’মাসের কথা থাকলেও আজ তা দেড় বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এর ফলে গত বছরও চিনা নববর্ষ উদযাপন করতে পারেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এবারও উৎসবের মুখে জওয়ানদের ক্যাম্প সেখানে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চিনা সম্প্রদায়।
আদালতের নির্দেশ: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সরানোর জন্য আরও ছ’মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আপাতত ১৬ ফেব্রুয়ারি চিনা নববর্ষ যাতে সুষ্ঠুভাবে পালিত হতে পারে, তার জন্য স্কুলের নির্দিষ্ট কিছু অংশ অবিলম্বে খালি করে দিতে হবে। এই বিষয়ে রাজ্য ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে আলোচনা করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা আদালতকে জানাতে হবে। ওই দিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি।





