স্কুলের আড়ালে জমি দখল ও মসজিদ নির্মাণ! বিএমসি-র তালিকায় থাকা স্কুল নিয়ে বিস্ফোরক বিজেপি নেতা; তুঙ্গে বিতর্ক!

মহারাষ্ট্রের বাণিজ্য নগরীতে এবার ‘স্কুল জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে সরব হলেন বিজেপি নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ কিরীট সোমাইয়া। তাঁর দাবি, বৃহানমুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) সম্প্রতি যে ১৬৪টি অবৈধ স্কুলের তালিকা প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে ১৫০টিই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তথাকথিত ‘মুসলিম ল্যান্ড মাফিয়া’দের দ্বারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুম্বইয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কী এই ‘স্কুল জিহাদ’ অভিযোগ?

রবিবার মুলুন্ডে নিজের বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সোমাইয়া অভিযোগ করেন যে, মুম্বইয়ে জমি দখলের একটি সংগঠিত চক্র চলছে। তাঁর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি হলো:

  • অবৈধ স্কুলের আড়ালে জমি দখল: গোবন্দি, মালাদ, কুর্লা-সহ মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে এই ১৬৪টি অননুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে।

  • ধর্মীয় রূপান্তর: অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে স্কুলের নামে জমি দখল করা হচ্ছে এবং পরবর্তীকালে সেগুলিকে মসজিদ বা ধর্মীয় স্থাপনায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে।

  • বিএমসি-র ভূমিকা: এতগুলো অবৈধ স্কুল চলতে দিলেও প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শিক্ষা না কি প্রতারণা?

কিরীট সোমাইয়ার মতে, এটি কেবল শিক্ষার নামে প্রতারণা নয়, বরং সরকারি ও সাধারণ মানুষের জমি হাতিয়ে নেওয়ার একটি গভীর কৌশল। তিনি একে ‘স্কুল জিহাদ’ বলে অভিহিত করেছেন কারণ তাঁর মতে এর পেছনে একটি বিশেষ সংগঠিত চক্র কাজ করছে।

রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড়

সোমাইয়ার এই মন্তব্যের পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, বিরোধীরা একে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা বলে সমালোচনা করছেন। তবে যদি সত্যিই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এমন কোনো চক্র চলে থাকে, তবে তা শিশুদের শিক্ষা ও নিরাপত্তা—উভয়ের জন্যই বড়সড় ঝুঁকি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।