বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহে এক বিস্ফোরক মোড় নিল মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি। ইরানের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল সৌদি আরব। রিয়াধের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরানি দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের আরও চার কর্মীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ছাড়তে হবে। তাঁদের ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’ বা অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সৌদি আরবের অভিযোগ, ইরান আন্তর্জাতিক নীতি ও বেইজিং চুক্তির চরম লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে ইজরায়েলের ডিমোনা শহরের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরেই পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। যদিও সেই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যচ্যুত হয়ে আবাসিক এলাকায় পড়েছিল, তবুও শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের দাবি, ইরানের এই আচরণ ‘ইসলামী ভ্রাতৃত্ব’ এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী।
আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাসের দাম আরও আকাশছোঁয়া হতে পারে। বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্বের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তা এখন খাদের কিনারায়। রবিবার ভোরে প্রকাশিত বিবৃতিতে সৌদি আরব সাফ জানিয়েছে, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান না দেখালে তেহরানের সঙ্গে ভবিষ্যতের কোনো সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়। লোহিত সাগর থেকে পারস্য উপসাগর—পুরো এলাকা এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের অপেক্ষায় দিন গুনছে।