ব্যান হওয়া সেই ‘C-গ্রেড’ ছবি ‘Gunda’! যে কারণে মিঠুন চক্রবর্তীর এই ছবি আজ ‘কাল্ট ক্লাসিক’
প্রতি বছর বলিউড প্রায় ১,৫০০টিরও বেশি চলচ্চিত্র তৈরি করে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বি- এবং সি-গ্রেড প্রোডাকশন। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া এমনই একটি সি-গ্রেড ছবি, ‘Gunda’, মুক্তির পরপরই বিতর্কের মুখে পড়ে এবং এমনকি নিষিদ্ধও হয়ে যায়। যদিও পরে এটি পুনরায় মুক্তি পায়। নিম্নমানের নির্মাণ এবং প্রাথমিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, এই ছবিটি এখন ‘কাল্ট ক্লাসিক’-এর মর্যাদা লাভ করেছে।
৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৮-এ মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি একসময় ‘অত্যন্ত হাস্যকর’ বলে বাতিল হয়েছিল, কিন্তু আজ এর উদ্ভট সংলাপ এবং খামখেয়ালী চরিত্রগুলো দর্শকদের, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে, মিমের প্রধান উৎস।
ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। একটি দৃশ্যে সাইকেলের পিছনে বসে তাঁর রিভলভার চালানোর দৃশ্যটি আজও স্মরণীয়। বি-গ্রেড অ্যাকশন ছবির জন্য পরিচিত কান্তি শাহ পরিচালিত এই ছবিটি এক ভিন্ন উত্তরাধিকার তৈরি করেছে। নিম্নমানের প্রোডাকশন এবং অতিরিক্ত নিম্নরুচির কনটেন্টের কারণে এটিকে সাধারণত সি-গ্রেড চলচ্চিত্র হিসাবেই গণ্য করা হয়, যা পরে ‘so bad it’s good’ ঘরানার ছবি হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। বর্তমানে এর IMDb রেটিং ৭.৩!
‘Gunda’-কে মিম-যোগ্য করে তোলার প্রধান কারণ হলো এর কাব্যিক স্টাইলের সংলাপ। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব পাঞ্চলাইন ছিল এবং নামগুলো ছিল বিশেষভাবে অদ্ভুত। শক্তি কাপুর অভিনীত ‘চুতিয়া’ চরিত্রটির বিখ্যাত লাইন ছিল: “Mera naam hai Chutiya, main acche acche logon ki zindagi kar deta hoon tatiya”। এছাড়া মুকেশ ঋষি অভিনীত ‘Bulla’ চরিত্রটির ক্যাচফ্রেজ ছিল: “Mera naam hai Bulla, main rakhta hoon khulla”।
সম্প্রতি, অভিনেতা মুকেশ ঋষি স্বীকার করেন যে এই ছবিতে অভিনয় করা তাঁর একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি বলেন, “কান্তি শাহ স্ক্রিপ্ট দিতেন না, শুধু একটি লাইন বলতেন। শুটিং সেটে সংলাপ তৈরি হতো।” তিনি আরও জানান, “সেই সময়ে এটি আক্রমণাত্মক মনে হলেও, ২৫ বছর পর আজকের প্রজন্ম এতে হাস্যরস খুঁজে পাওয়ায় আমি খুশি।”
জানা যায়, অশ্লীলতা ও অতিরিক্ত সহিংসতার অভিযোগ ওঠায় সেন্সর বোর্ডের নির্দেশে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং পরে কাঁচছাঁট করে পুনরায় মুক্তি দেওয়া হয়। ১.৫ কোটি টাকা বাজেটে তৈরি এই ছবিটি বক্স অফিসে ৪ কোটি টাকা আয় করলেও সেই সময় ‘ফ্লপ’ হয়েছিল। তবে, ইন্টারনেট যুগে এর অনবদ্য হাস্যরস খুঁজে পেয়ে ছবিটি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।