সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করলেই কি গারদে যেতে হবে? সাধারণ মানুষ থেকে ইনফ্লুয়েন্সার—রাষ্ট্রের কোপে পড়ার আতঙ্কে দিন কাটান অনেকেই। কিন্তু এবার সেই ভয়ের সংস্কৃতিতে ইতি টানতে বড়সড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সমাজ মাধ্যমে কেউ রাজনৈতিক সমালোচনা করলেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘যান্ত্রিক’ বা রোবটের মতো অভিযোগ দায়ের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কোনোভাবেই হেনস্থা করা যাবে না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে।
তেলেঙ্গানা বনাম নাল্লা বালু মামলার রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনো অভিযোগ জমা পড়লেই পুলিশ বা প্রশাসন ঝাঁপিয়ে পড়ে পদক্ষেপ করতে পারবে না। প্রথমে অভিযোগের সারবত্তা খতিয়ে দেখতে হবে এবং সময় নিয়ে তদন্ত করতে হবে। অতিসক্রিয়তা থেকে প্রশাসনকে দূরে থাকার কড়া বার্তা দিয়েছে আদালত।
পশ্চিমবঙ্গে গত এক দশকে এই ধরণের ঘটনা বারবার শিরোনামে এসেছে। ২০১২ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্টুন ফরোয়ার্ড করে কারাবাস খাটতে হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রকে। দীর্ঘ ১১ বছর আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৩ সালে তিনি মুক্তি পান। সুপ্রিম কোর্টের এই নয়া রায় প্রসঙ্গে অম্বিকেশবাবু বলেন, “এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি, কিন্তু বাস্তবে পুলিশ আইন কতটা মানবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।” একইভাবে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর পক্ষ থেকে রঞ্জিত শূর জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপ্রদেশ—সর্বত্রই শাসকের বিরুদ্ধে মুখ খুললে হেনস্থার যে সংস্কৃতি চলছে, এই রায় তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।