সোমবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট: আর্থিক সংকটের মধ্যেই ডিএ জট কাটাতে কী পথে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে নবনির্বাচিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই প্রথম বড় বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে।
ডিএ নিয়ে কী সম্ভাবনা? প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান বিশাল ঋণের বোঝা এবং কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একলপ্তে পুরো বকেয়া মেটানো কঠিন হলেও, এই বাজেটে ১০ থেকে ১২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা হতে পারে। বাকি বকেয়া ধাপে ধাপে মেটানোর একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও বাজেটে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও সরকারের রাডারে রয়েছে।
আর্থিক চ্যালেঞ্জ ও নতুন কৌশল রাজ্য সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো ৩৫ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকার বকেয়া দায়ের পাহাড় সামলানো। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের অন্দরে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ভাবনা রয়েছে। আর্থিক ঘাটতি মেটাতে সরকার মূলত রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং অপচয় রোধের ওপর জোর দিচ্ছে। জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা চিহ্নিত করা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে রাজকোষে চাপ কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে নবান্ন।
বাজেটের সম্ভাব্য আকার অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন সরকারের এই পূর্ণাঙ্গ বাজেটের আকার সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগের সরকারের প্রকল্পগুলোর বদলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোকে রাজ্যে পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার, যাতে রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক দায় কিছুটা কম হয়।
পাঁচ বছরের রোডম্যাপ শুধুমাত্র বাজেট নয়, আগামী পাঁচ বছরের জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপও এই বাজেটে তুলে ধরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঋণের ভার সামলে কীভাবে রাজ্যকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই ব্লু-প্রিন্টই সোমবারের বাজেটের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে।