সোনা কেনার কথা ভাবছেন? বিগত ৩০ বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে চোখ কপালে উঠবে আপনার!

ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা বরাবরই এক আবেগ ও আস্থার জায়গা। বিয়ের মরশুম থেকে শুরু করে যেকোনো শুভ অনুষ্ঠান কিংবা ভবিষ্যতের সঞ্চয়—সোনা কেনার চাহিদা এ দেশে চিরকালীন। তবে গত ৩০ বছরের সোনার দামের গতিপ্রকৃতি ও বাজারের তথ্য পর্যালোচনা করলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ কিছু চমকপ্রদ ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা উঠে আসে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতি—সব পরিস্থিতিতেই সোনা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
সংকটকালেই সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয় সোনা
১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে এশীয় আর্থিক সংকট, ২০০৮ সালের বিশ্বজোড়া অর্থনৈতিক মহামন্দা, কোভিড-১৯ অতিমারী এবং সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সোনার দামে দুর্দান্ত উল্লম্ফন দেখা গেছে। শেয়ার বাজারে যখনই চরম অস্থিরতা তৈরি হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় বা ‘সেফ হেভেন’ হিসেবে সোনাকেই বেছে নেন।
তাছাড়া, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে রেকর্ড পরিমাণ সোনা কিনেছে, যা এর দামকে আরও উর্ধমুখী করেছে।
সোনা কি সব সময় সর্বোচ্চ লাভ দেয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতিকে অনায়াসেই পেছনে ফেলে দেয় ঠিকই, তবে এটি সবসময় যে সর্বোচ্চ লাভজনক মাধ্যম হবে, এমনটা নয়। এমন সময়ও গেছে যখন বছরের পর বছর সোনার দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল বা খুব একটা বৃদ্ধি পায়নি। এই কারণেই আর্থিক বিশেষজ্ঞরা কখনোই সমস্ত মূলধন বা জমানো টাকা শুধু সোনায় বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেন না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সেরা কৌশল কী?
গত ৩০ বছরের ইতিহাস থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়, তা হলো—বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে ঝুঁকি কমাতে এবং স্থিতিশীলতা আনতে সোনা একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। তবে শুধুমাত্র অতীতের দাম বাড়ার প্রবণতার ওপর অন্ধভাবে ভরসা না করে, নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও আর্থিক লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করা উচিত। ইক্যুইটি, ডেট এবং সোনার সঠিক মিশ্রণে একটি সুষম পোর্টফোলিও তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সেরা উপায়।