২০২৬ সালের মার্চ মাস সোনার বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো প্রমাণিত হয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম যেখানে প্রতি আউন্স ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, বর্তমানে তা ২০-২২ শতাংশ পড়ে গিয়ে ৪,৪০০-৪,৫০০ ডলারের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। ভারতীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে। ১০ গ্রাম সোনার দাম ১.৬০ লক্ষ টাকার রেকর্ড স্তর থেকে কমে ১.৩০ লক্ষ টাকার নিচে নেমে এসেছে।
কেন এই পতন? বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ হলো বিশ্ববাজারে ডলারের অস্বাভাবিক উত্থান এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি। সাধারণত যুদ্ধ বা অস্থিরতার সময় সোনার দাম বাড়ে, কিন্তু ২০২৬-এর চিত্রটা ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া রাশিয়া তাদের দীর্ঘ ২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কেন্দ্রীয় রিজার্ভ থেকে সোনা বিক্রি শুরু করায় বাজারে সরবরাহের চাপ বেড়েছে।
আরও কত কমতে পারে দাম? এলকেপি সিকিউরিটিজ এবং কোটাক সিকিউরিটিজের মতো সংস্থার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পতন এখনই থামার লক্ষণ নেই। স্বল্প মেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ৩,৬০০ থেকে ৪,০০০ ডলার পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। যদি এই সাপোর্ট লেভেল ভেঙে যায়, তবে ভারতীয় বাজারে সোনার দাম ১.১০ লক্ষ থেকে ১.১৫ লক্ষ টাকার স্তরে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান দাম থেকে আরও ১০-১৫ শতাংশ পতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ: বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনই প্যানিক সেল বা আতঙ্কে সোনা বিক্রি করার প্রয়োজন নেই। বরং বড় পতনের সময় অল্প অল্প করে সোনা কেনা বা ‘বাই অন ডিপস’ কৌশল নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে ২০২৭ সালের মধ্যে সোনা আবার ঘুরে দাঁড়াবে এবং ৫,০০০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারে বলে অনেক বড় ব্যাঙ্ক আশা করছে। তবে বিয়ের মরসুমের আগে যারা গয়না কিনতে চাইছেন, তাদের জন্য এই সংশোধন একটি বড় সুযোগ হতে পারে।