সোনার গয়না বন্ধক রেখে বিপদ? ভারতের গোল্ড লোন বাজারে বড় ধসের আশঙ্কা, সামনে এল ভয়াবহ তথ্য!

ভারতের গোল্ড লোন বা স্বর্ণ ঋণ বাজারে ঘনীভূত হচ্ছে আশঙ্কার কালো মেঘ। যে সোনাকে বিপদের বন্ধু মনে করা হয়, সেই সোনাই এখন ব্যাংক এবং এনবিএফসি (NBFC) সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রান্সইউনিয়ন সিভিল (TransUnion CIBIL)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বড় অঙ্কের স্বর্ণ ঋণ এবং একাধিক লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে খেলাপি হওয়ার (Delinquency) হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, যাদের ঋণের পরিমাণ ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি, তাদের মধ্যে খেলাপি হওয়ার হার ১.৫%। এটি ছোট ঋণগ্রহীতাদের তুলনায় প্রায় ২.২ গুণ বেশি। উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে প্রায় ৪৮% ঋণগ্রহীতার লোন ব্যালেন্স ২.৫ লক্ষ টাকার উপরে। এমনকি, ৪৬% গ্রাহক এমন আছেন যারা ৫টিরও বেশি সক্রিয় গোল্ড লোন নিয়ে রেখেছেন, যা বাজারে ঋণের ঝুঁকি বা ‘ক্রেডিট রিস্ক’ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
সোনার দাম কমায় কেন এই আতঙ্ক?
গত কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তেজনার মাঝেও ভারতে সোনার দাম প্রায় ১৫% পড়ে গিয়েছে। এর ফলে ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ:
সোনার দাম কমলে বন্ধক রাখা গয়নার মূল্য (Collateral Value) কমে যায়।
দাম বেশি পড়ার ফলে অনেক সময় গ্রাহক ঋণ শোধ করার চেয়ে গয়না ছেড়ে দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেন।
ব্যাংকগুলোর ‘লোন-টু-ভ্যালু’ (LTV) রেশিও বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরবিআই-এর (RBI) নতুন নিয়ম
পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। এখন থেকে ২.৫ লক্ষ টাকার নিচে ঋণের জন্য সর্বোচ্চ ৮৫% এলটিভি (LTV) পাওয়া গেলেও, বড় ঋণের ক্ষেত্রে তা কমিয়ে ৭৫% করা হয়েছে। এছাড়া বন্ধক রাখা সোনা ফেরত দেওয়া এবং নিলাম প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতেও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞের রায়: ট্রান্সইউনিয়ন সিবিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভবেশ জৈন জানিয়েছেন, “শুধুমাত্র গয়নার দাম দেখে ঋণ দেওয়ার দিন শেষ। এখন থেকে ঋণদাতার আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং অতীতের রেকর্ড দেখে তবেই বড় অঙ্কের লোন দেওয়া উচিত।”