সোনার উৎস কোথায়? ২০০৪ সালের এক রহস্যময় সংকেতেই লুকিয়ে মহাজাগতিক রহস্য

ভারতে সোনার আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে চর্চার শেষ নেই, কিন্তু আপনি কি জানেন আপনার গয়না বা স্মার্টফোনের সোনার উৎস আসলে পৃথিবী নয়? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, সোনা ও প্ল্যাটিনামের মতো ভারী ধাতুগুলির জন্ম হয়েছে মহাবিশ্বের চরম পরিবেশে, বিশেষ করে ‘ম্যাগনেটার’ নামক এক অতি শক্তিশালী নক্ষত্রের বিচ্ছুরণ থেকে।

‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশিত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে ধরা পড়া একটি বিরল মহাজাগতিক সঙ্কেত এই রহস্যের সমাধান দিয়েছে। একটি ম্যাগনেটার, যার চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীর তুলনায় ট্রিলিয়ন গুণ শক্তিশালী, তা থেকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি শক্তিশালী শিখার বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, ওই কয়েক সেকেন্ডের বিস্ফোরণে আমাদের সূর্য ১০ লক্ষ বছরে যে পরিমাণ শক্তি নির্গত করে, তার চেয়েও বেশি শক্তি বেরিয়েছিল। এই অতি শক্তিশালী ঘটনাটিই সোনা ও প্ল্যাটিনামের মতো বিরল মৌল সৃষ্টির উৎস।

গবেষক অনিরুদ্ধ প্যাটেল ও ব্রায়ান মেটজগার জানিয়েছেন, আমাদের গ্যালাক্সির মোট ভারী ধাতুর ১০ শতাংশ পর্যন্ত এই ধরনের মহাজাগতিক ঘটনার মাধ্যমে তৈরি হতে পারে। পৃথিবী সৃষ্টির সময় ভারী ধাতুগুলো কেন্দ্রের গভীরে তলিয়ে গিয়েছিল, পরবর্তীতে উল্কাপাতের মাধ্যমেই এগুলি ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। মহাবিশ্বের উৎপত্তির রহস্য উন্মোচনে এই আবিষ্কার এক নতুন মাইলফলক, যা আমাদের ফোন বা কম্পিউটারে থাকা ধাতুগুলোর মহাজাগতিক শিকড়কে সামনে নিয়ে এল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy