দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ্য করে পাথর, ডিম ও ইট ছোড়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার প্রতিক্রিয়া: সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার ভিডিও পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করে লেখেন, “শাসকরাই এখন খুনি হয়ে গিয়েছে! বিজেপিকে ধিক্কার।” তিনি এই ঘটনাকে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হিসেবেই দেখছেন।
জাতীয় স্তরে নিন্দার ঝড়: অভিষেকের ওপর এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী দলগুলোও। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব থেকে শুরু করে তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন—প্রত্যেকেই এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় স্তরের নেতারা একে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া: ঘটনার পর মুখ খুলেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি সংবাদসংস্থা এএনআই-কে জানান, “আমি এই ঘটনার নিন্দা করছি। তবে জনসাধারণের কাছে আমার আর্জি, তারা যেন আইন-শৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে না নেন। তৃণমূল কংগ্রেস এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের, সেটাই হয়ত আজ বহিঃপ্রকাশ পেয়েছে।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি: ঘটনার সময় অভিষেকের ওপর চোর স্লোগান এবং জুতো ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়, কিন্তু এই ঘটনার পর রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন তৃণমূল একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলছে, অন্যদিকে বিজেপি এটিকে ‘জনরোষ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে।
এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার জেরে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না, কারণ এই হামলা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিরতাকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।





