সেশেলসের ৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক কুচকাওয়াজ, মোদীর সম্মানে সুর চড়াল ভারতীয় সেনা!

সেশেলসের ৫০তম স্বাধীনতা দিবসের গোল্ডেন জুবিলি অনুষ্ঠানে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল ভারত। তিন দিনের সরকারি সফরে সেশেলসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবারের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে ভারতীয় সেনার পরাক্রম ও নৌসেনার উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরলেন। দ্বীপরাষ্ট্রটির স্বাধীনতার অর্ধশতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্যারেডে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর এই অংশগ্রহণ ভারত-সেশেলস কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতাকেই প্রকাশ করে।
রাজধানীর রাজপথে কুচকাওয়াজের সময় ভারতীয় সেনার আসাম রেজিমেন্টের জওয়ানদের পরিবেশিত বিখ্যাত রেজিমেন্টাল গান ‘বদলু রাম কা বদন’ উপস্থিত দর্শক ও আমন্ত্রিতদের মন জয় করে নেয়। প্যারেডে ভারতীয় নৌসেনার স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তরকশ’ এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সার্ভে ভেসেল ‘আইএনএস ইক্ষক’-এর উপস্থিতি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রদর্শন ঘটায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাঁড়িয়ে কুচকাওয়াজকে সম্মান জানান এবং পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনিকে এই ঐতিহাসিক আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
কেবল সামরিক প্রদর্শনীই নয়, এই সফরকে কেন্দ্র করে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতাও ছিল তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী মোদী সেশেলসের বিরোধী দলনেতা বার্নার্ড জর্জেসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা করেন। মোদী জানিয়েছেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক সেশেলসের রাজনৈতিক মহলের সর্বজনীন সমর্থন লাভ করেছে।
সফরসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগুলামের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক। এই আলোচনা ভারত-মরিশাস ‘এনহ্যান্সড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা বর্ধিত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন গতি দেওয়ার লক্ষ্যেই হয়েছে। দুই নেতা পরিকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, সবুজ শক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সেশেলসের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভাষণ ছিল এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তিনি ভারত ও সেশেলসের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অধিবেশন শেষে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কালে মোদী ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিন দিনের এই সফর ভারত মহাসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ককে যে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।