মাত্র ৬০ দিনেই বিচার! ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের ফাঁসির সাজা

বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন এবং দৃষ্টান্তমূলক রায় দিল পুনের আদালত। মাত্র ৬০ দিনের মাথায় ৩ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করল আদালত। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশের আইন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করল এই রায়।
ঘটনার সূত্রপাত গত মে মাসে। পুনের একটি এলাকায় ৩ বছরের এক অবুঝ শিশুকন্যাকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে এই বৃদ্ধ। অভিযোগ, এরপর ওই শিশুকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পাশবিক অত্যাচার চালায় সে। ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের আর্তনাদ এবং এলাকার মানুষের প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল সেই সময়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে যাবতীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। পুলিশের নিখুঁত তদন্ত এবং পেশাদারিত্বের কারণে এই মামলার চার্জশিট খুব দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। বিশেষ পকসো (POCSO) আদালতে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিচারক অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দ্রুত বিচারের স্বার্থে প্রতিদিন শুনানি পরিচালনা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ফরেনসিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, এই ধরনের অপরাধ সভ্য সমাজের লজ্জা। এমন নৃশংস অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তিই কাম্য। অভিযুক্তের বয়স ৬৫ বছর হওয়া সত্ত্বেও তার অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে।
এই রায়ের পর শিশুটির পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, “মেয়ের মৃত্যুর শোক আমরা কোনোদিনই কাটাতে পারব না, তবে এই দ্রুত রায়ে আমরা অন্তত কিছুটা শান্তি পেলাম। আদালতের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ যে এত কম সময়ে অপরাধীকে চরম সাজা দেওয়া হয়েছে।”
আইনজীবীদের মতে, মাত্র দুই মাসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া ভারতের বিচার ব্যবস্থার এক অন্যতম মাইলফলক। সমাজ মনে করছে, এই কঠোর ও দ্রুত রায় অন্যান্য অপরাধীদের মনে ভয়ের সঞ্চার করবে এবং ভবিষ্যতে শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের হার কমাতে সাহায্য করবে। পুনের এই ঘটনা প্রমাণ করল, সদিচ্ছা ও দ্রুত তদন্ত থাকলে বিচার পাওয়া সম্ভব। আজ পুনের আদালত যেন ন্যায়বিচারের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল। অভিযুক্ত এখন আইনের চূড়ান্ত সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায়।