আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় বাম-গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ জোট গঠনের তোড়জোড় শুরু হতেই দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বৈঠককে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সংঘাতের পথে সিপিআইএমএল লিবারেশন। দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, হুমায়ুনের সঙ্গে সেলিমের এই বৈঠক করা একেবারেই অনুচিত হয়েছে।
বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের কারণ: বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার দলবদল করা হুমায়ুন কবীরের মতো একজন নেতার সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন অনুভব করলেন মহম্মদ সেলিম? তাঁর দাবি, “যিনি ২০১৯ সালে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন, তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন এবং বিতর্কিত কথা বলে বেড়ান, তাঁর ওপর বাংলার মানুষের কোনো ভরসা নেই। এই বৈঠকের ফলে বামপন্থীদের মধ্যে তো বটেই, এমনকি খোদ সিপিএম-এর অন্দরেও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।” লিবারেশন নেতৃত্বের মতে, জোট প্রক্রিয়া হওয়া উচিত কংগ্রেস, আইএসএফ এবং অন্যান্য বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির সঙ্গে নয়।
সুজন চক্রবর্তীর পাল্টা জবাব: জোটের স্বার্থে মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা এবং রাজ্যের অপশাসন নিয়ে আন্দোলনের ওপর জোর দিয়েছেন দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তবে তাঁর এই সমালোচনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ সিপিএম নেতৃত্ব। লিবারেশন সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী সাফ জানান, “দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের বক্তব্যের দায় সম্পূর্ণ তাঁরই। নির্বাচন নিয়ে যখন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে, তখনই এই প্রসঙ্গগুলো তোলা যাবে। এখন এই নিয়ে উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” এই চাপানউতোরের ফলে ভোটের আগে জোটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।