“সুশাসনের নতুন যুগ শুরু”, বাংলায় ঐতিহাসিক রেকর্ড ব্রেকিং ভোট দেখে গদগদ অমিত শাহ!

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই আছড়ে পড়ল গণতন্ত্রের সুনামি। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণে বুথমুখী হয়েছিলেন জনতা জনার্দন, আর সেই ভোটদানের হার অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ৯২.৫২ শতাংশ। আর এই পাহাড়প্রমাণ ভোটদানের হার দেখে নবান্ন দখলের লড়াইয়ে জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবির।
বৃহস্পতিবারই বাংলার মানুষকে এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর শুক্রবার সকালেই রেকর্ড ব্রেকিং ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর জন্য নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দরাজ শংসাপত্র দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) শাহ লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মহোৎসবে অংশগ্রহণের সকল রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য ভোটারদের আন্তরিক অভিনন্দন। বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার জন্য কমিশন ও জওয়ানদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এটি বাংলায় সুশাসনের এক নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহ যেভাবে একযোগে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত রাজ্যে ভোট মানেই অশান্তি আর রক্তপাতের খবর শিরোনামে থাকে, কিন্তু এবার প্রথম দফা ছিল কার্যত নজিরবিহীনভাবে শান্ত। শাহের এই শুভেচ্ছাবার্তাকে ভোট পরবর্তী এক বড় রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে জয়ের ব্যবধান নিয়ে বড়সড় দাবি করে বসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১২৫টি আসনে পদ্ম শিবিরের জয় নিশ্চিত। সব মিলিয়ে, রেকর্ড ভোটদানের শতাংশ আর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রবল আত্মবিশ্বাস এখন বাংলার রাজনীতির পারদকে তুঙ্গে তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, এই রেকর্ড ভোট শাসকদলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে দেয়, নাকি তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনকে আরও মজবুত করে।