রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মহার্ঘভাতা (DA) মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। বকেয়া ডিএ-কে ‘আইনস্বীকৃত অধিকার’ হিসেবে মান্যতা দিয়ে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া টাকার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। এই রায়ের পরেই বৃহস্পতিবার উৎসবে মাতলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। শহিদ মিনারের আন্দোলন চত্বরে চলল আবির খেলা ও মিষ্টিমুখ।
জয়ের আনন্দে ভাসলেও সুর নরম করেনি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যেন আর আগুন নিয়ে না খেলেন। ভোটের মুখে যদি এই নির্দেশ না মানা হয়, তবে আপনাকে নতুন করে আন্দোলন শেখাব আমরা।” তিনি আরও জানান, এই লড়াই ছিল বাঙালির অস্মিতার লড়াই। সুপ্রিম কোর্ট তিন সদস্যের যে কমিটি গড়ে দিয়েছে, তার ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আগামী ৬ মার্চের মধ্যে প্রথম কিস্তির টাকা না দেওয়া হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ডাক দিয়েছেন তিনি।
এই লড়াইয়ে প্রথম থেকে পাশে থাকার জন্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রবীণ আইনজীবী তথা বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে যৌথ মঞ্চ। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এই রায়কে রাজ্য সরকারের গালে ‘চড়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রমাণিত হল যে রাজ্য প্রশাসনের ওপর আদালতের কোনও আস্থা নেই। সেই কারণেই ভিন রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে কমিটি গড়তে হয়েছে।”
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকার এতদিন যে টালবাহানা করছিল, আদালতের নির্দেশে তা ধোপে টেকেনি। তবে অস্থায়ী কর্মচারীদের অধিকারের লড়াই জারি থাকবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সব মিলিয়ে, ডিএ আন্দোলনে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় রাজ্য সরকারের ওপর প্রবল আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।