২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে দাঁড়িয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সশরীরে সওয়াল করলেন তিনি। প্রশাসনিক প্রধানের এই নজিরবিহীন আইনি পদক্ষেপকে তৃণমূল ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখলেও, বিরোধী শিবিরের তোপ থেকে রেহাই পাননি মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ প্রমাণ করে দিলেন বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি শেষ পর্যন্ত লড়তে পারেন। তাঁর সওয়ালের পর সুপ্রিম কোর্টও অনুভব করেছে যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে সাধারণ মানুষের ওপর হয়রানি চলছে।” তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন আজ তৃণমূল নেত্রীর যুক্তিজালের মুখে কোণঠাসা।
পালটা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষের তীক্ষ্ণ কটাক্ষ, “২০২৬-এ হার নিশ্চিত জেনেই কি এখন থেকে ওকালতি প্র্যাকটিস শুরু করলেন মমতা?” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এটি কেবলই সহানুভুতি আদায়ের চেষ্টা। অন্যদিকে, সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, যখন তালিকা সংশোধনের কাজ চলছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রী কেন চুপ ছিলেন? তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই শেষ মুহূর্তে আদালতের এই ‘নাটক’। তবে ইন্ডিয়া জোটের শরিক সিপিআইএমএল লিবারেশনের নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে একে ‘নির্মম বাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন।