দিল্লির সুপ্রিম কোর্টে আবারও পিছিয়ে গেল বহুল চর্চিত আই-প্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত মামলার শুনানি। মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি শোনার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ফলে আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক উপস্থিতি এবং সেই রহস্যময় ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে আইনি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হলো।
কেন পিছাল শুনানি? আদালত সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল এদিন অসুস্থ ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতির কারণেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছে। এর আগে ইডি-র আইনজীবীরাও রাজ্য সরকারের হলফনামা খতিয়ে দেখতে সময় চেয়েছিলেন।
ঘটনার নেপথ্যে সেই ‘সবুজ ফাইল’ নাটক গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায় ইডি। সেই সময় সেখানে হঠাৎ হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তল্লাশি চলাকালীন তিনি বাড়ির ভেতরে ঢোকেন এবং কিছুক্ষণ পর হাতে একটি সবুজ রঙের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নথিপত্র সরিয়ে তদন্তে বাধা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘চুরি’র মতো গুরুতর অভিযোগও এনেছে।
মমতার পাল্টা যুক্তি ও অনিশ্চয়তা পাল্টা হলফনামায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নিয়েই প্রয়োজনীয় নথি ও ডিভাইস নিয়ে গিয়েছিলেন। ইডি ও রাজ্য সরকারের এই সম্মুখ সমরে সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশের রাজনৈতিক মহল। ১৮ ফেব্রুয়ারি কি এই জট কাটবে, না কি আইনি লড়াই গড়াবে আরও বহুদূর?