২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই দক্ষিণবঙ্গে নিজেদের জমি শক্ত করতে ঝাঁপিয়েছে বিজেপি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকা। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একঝাঁক দাপুটে নেতা ও কয়েক হাজার কর্মী আজ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের ‘দুর্গে’ এই ভাঙন শাসকদলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
শুভেন্দুর ‘সুন্দরবন জয়’ কৌশল: এদিন সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তৃণমূল ত্যাগী নেতাদের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। দলত্যাগী নেতাদের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে ‘দমবন্ধ’ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের উন্নয়নের চেয়ে সিন্ডিকেট রাজ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছিল। এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই শুভেন্দু অধিকারী সুন্দরবনের খাঁড়ি এলাকায় নিজের ঘুঁটি সাজালেন।
কী বললেন শুভেন্দু? মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রীকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দেন—
“সুন্দরবনের মানুষ আর বঞ্চনা সইবে না। আয়লা থেকে আম্ফান— দুর্নীতির টাকা কারা খেয়েছে, তা সুন্দরবনের মানুষ জানে। আজ থেকে এই এলাকায় তৃণমূলের পতন শুরু হলো। ২০২৬-এ সুন্দরবনের মাটি থেকে ঘাসফুল উপড়ে ফেলবে এই নতুন যোদ্ধারাই।”
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, যারা দল ছেড়েছে তারা ‘সুবিধাবাদী’। এতে সুন্দরবনের ভোটব্যাঙ্কে কোনো প্রভাব পড়বে না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ওপরই মানুষের আস্থা থাকবে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য:
শক্তিশালী সংগঠন: দলত্যাগী নেতারা সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলে যথেষ্ট প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত।
ভোটের সমীকরণ: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বরাবরই দুর্বল ছিল, এই ভাঙন সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
শুভেন্দুর আধিপত্য: নন্দীগ্রামের পর সুন্দরবনেও শুভেন্দুর ব্যক্তিগত ম্যাজিক কাজ করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
একনজরে আজকের ইভেন্ট:
স্থান: সুন্দরবন এলাকা (পাথরপ্রতিমা/কুলতলি সংলগ্ন)।
উপস্থিতি: শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
দলবদল: প্রাক্তন ব্লক সভাপতি ও পঞ্চায়েত স্তরের একাধিক সদস্য।





