নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে শ্রীঘরে ঠাঁই হলো রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী সুজিত বসুর। ইডি-র ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতের নির্দেশে তাঁর গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই গ্রেফতারির চেয়েও এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের এক বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি। আর সেই হুঁশিয়ারির পরেই কি এবার সিঁদুরে মেঘ দেখছেন রাজ্যের আরেক হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস? রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
সুজিত বসুর গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই নিশীথ প্রামাণিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দুর্নীতির জট খুলতে তিনি কোনো প্রভাবশালীকেই রেহাই দেবেন না। নিশীথের কথায়, “সুজিত বসু তো সবে শুরু। ফাইলের ধুলো ঝাড়া হচ্ছে, খুব শীঘ্রই আরও বড় বড় নাম সামনে আসবে।” নিশীথের এই সরাসরি চ্যালেঞ্জের পর থেকেই প্রশাসনিক অন্দরে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, পরবর্তী তদন্তের অভিমুখ কি এবার অরূপ বিশ্বাসের দপ্তরের দিকে?
সূত্রের খবর, অরূপ বিশ্বাসের নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তরগুলিতেও বিগত কয়েক বছরে বেশ কিছু প্রশাসনিক অসংগতির অভিযোগ উঠেছিল। সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ মহলে থাকা তথ্যপ্রমাণ যদি অরূপের দিকে ইঙ্গিত করে, তবে পরিস্থিতি যে আরও জটিল হবে তা বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুজিতের গ্রেফতারি তৃণমূলের জন্য কেবল একটি ব্যক্তিগত ধাক্কা নয়, বরং এটি একটি চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করতে পারে।
এদিকে, নিশীথ প্রামাণিকের আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখে রীতিমতো অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। একদিকে মন্ত্রীদের একের পর এক জেল যাত্রা, অন্যদিকে নতুন সরকারের তদন্তের গতি— সব মিলিয়ে অরূপ বিশ্বাসের মতো প্রবীণ নেতাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। সুজিতের পর কি এবার নবান্নের আরও কোনো প্রভাবশালী মহলে হানা দেবে কেন্দ্রীয় সংস্থা? নাকি নিশীথের এই হুঁশিয়ারি কেবল মনস্তাত্ত্বিক লড়াই? উত্তর পেতে আপাতত নজরে বাংলার রাজপথ থেকে আদালতের এজলাস।





