সীমান্ত উত্তেজনার মাঝেই ভারতকে চমকে দেওয়া সিদ্ধান্ত! পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বকে দিল্লিতে তলব?

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সমীকরণ ক্রমশ তীব্র উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার জবাব হিসেবে ভারতীয় বিমানবাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে পাক আকাশে ঢুকে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। এরপর পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টা করলেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে উপযুক্ত শিক্ষা দেয় নয়াদিল্লি। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব তুঙ্গে পৌঁছায়। তবে সেই বরফ জমা সম্পর্কের মাঝেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক চাল চালল ভারত।

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে আগামী নভেম্বর মাসে আয়োজিত হতে যাওয়া সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর প্রথম ‘সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগ ফোরাম’-এ যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারত সরকার পরিচালিত এই হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক ফোরামে SCO-র মোট ১০টি সদস্য রাষ্ট্রকেই নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ সম্মেলন। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঐতিহাসিক বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তানের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খান খিচিকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ প্রতিনিধি পাঠাবে কি না, তা নিয়ে এখনও চরম ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলির মধ্যে বহুযুগীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করা, পাশাপাশি ইতিহাস, প্রাচীন ঐতিহ্য ও সভ্যতা সম্পর্কে পারস্পরিক জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি করা। ভারত ছাড়াও এই জোটের সদস্য তালিকায় রয়েছে চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরঘিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। ২০২৫ সালে চিনের তিয়ানজিনে আয়োজিত SCO শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম এই উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর তাজিকিস্তানের দুশানবেতে আয়োজিত বৈঠকে রাজনাথ সিং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে ভারত এই ঐতিহাসিক ফোরামের প্রথম আয়োজক দেশ হতে চলেছে।

২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তানের কোনো শীর্ষ মন্ত্রীকে ভারতীয় ভূখণ্ডে আমন্ত্রণ জানানোর খবরটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এটিকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলার সংকেত হিসেবে দেখতে নারাজ। কারণ বহুপাক্ষিক প্রোটোকল মেনে SCO-র সমস্ত সদস্য দেশকে নিয়মমাফিক ডাকা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে আমন্ত্রণ গেছে পাকিস্তানের কাছেও। তবুও চরম দ্বিপাক্ষিক বৈরিতার মাঝে দিল্লির মাটিতে পাক মন্ত্রীর উপস্থিতি ঘটে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।