সীমান্তে এবার পাহারায় সাপ ও কুমির! বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ রুখতে কি নজিরবিহীন দাওয়াই কেন্দ্রের?

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং গরু পাচার রুখতে এবার ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) এক অভিনব এবং ভয়ঙ্কর কৌশল নিতে চলেছে। ড্রোনের নজরদারি বা লেজার দেওয়ালের পর এবার সীমান্তে ‘প্রাকৃতিক বাধা’ হিসেবে বিষধর সাপ এবং কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই বিএসএফ-এর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এই বিষয়ে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, সুন্দরবন অঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের নদীয়া ও মালদহ সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীমাতৃক। এই সব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। আর এই ভৌগোলিক সুযোগ নিয়েই জলপথে বাংলাদেশ থেকে অবাধে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান চলে। এই ছিদ্রপথগুলো বন্ধ করতেই নদীতে কুমির এবং ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকায় বিষধর সাপ ছাড়ার প্রস্তাব উঠে এসেছে।

কেন এই পরিকল্পনা?

  • মনস্তাত্ত্বিক চাপ: সীমান্তে প্রহরীদের পাশাপাশি যদি কুমির বা সাপের ভয় থাকে, তবে অনুপ্রবেশকারীরা জলে নামতে বা ঝোপের ভিতর দিয়ে সীমান্ত পার হতে ভয় পাবে।

  • প্রাকৃতিক সুরক্ষা: সুন্দরবন বা সংলগ্ন জলাভূমিতে কুমির অত্যন্ত কার্যকরী রক্ষী হিসেবে কাজ করতে পারে, যা টহলদারির খরচ এবং ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

  • পাচার রোধ: গরু পাচারকারীরা মূলত নদীপথ ব্যবহার করে। নদীতে কুমিরের আধিক্য থাকলে এই অবৈধ কাজ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএসএফ-কে নির্দেশ: কেন্দ্র বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে, কোন কোন স্পর্শকাতর পয়েন্টে এই ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা চিহ্নিত করতে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপে যেমন চমক রয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ এই প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্র যে কোনও আপস করতে রাজি নয়, তা এই পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট। এখন দেখার, সীমান্তের পাহারাদার হিসেবে বিএসএফ-এর সঙ্গী কি সত্যিই এবার হতে চলেছে ‘জ্যান্ত যম’?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy