‘সিসিটিভি ফুটেজ লুকাতে চাইছে পুলিশ!’ যন্তর মন্তরে সাংবাদিক হেনস্তা কাণ্ডে ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তের মাঝেই তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে তিনজন নারী সাংবাদিককে পুলিশকর্মী কর্তৃক যৌন হেনস্তার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী। শনিবারের ওই ঘটনার পর থেকে রবিবার পেরিয়ে সোমবারও দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য ও আইনজীবীরা। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে দফায় দফায় চলে স্লোগান ও বিক্ষোভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা থানা চত্বর কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয় এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগ ছিল, একজন নারী সাংবাদিক খোদ পুলিশের এক সহকারী কমিশনারের (ACP) বিরুদ্ধে গুরুতর শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা সত্ত্বেও পুলিশ নিয়মমাফিক তৎক্ষণাৎ এফআইআর নথিভুক্ত করেনি। ঘটনার দিনই সিসিটিভি ফুটেজ চেয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলেও পুলিশ ২৪ ঘণ্টা সময় চেয়ে কালক্ষেপ করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ওই এসিপি-র বিরুদ্ধে এর আগেও গত জুলাই মাসে একই ধরনের হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল, যা পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার নাম করে পুলিশ কালক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এফআইআর নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
বিতর্ক বাড়ার পর দিল্লি পুলিশ তাদের অফিশিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে, অভিযোগগুলির চরম সংবেদনশীলতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি পার্রমেন্ট স্ট্রিট থানা থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ক্রাইম ব্রাঞ্চের বিশেষ দল ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের রেকর্ড করা ভিডিও, মোবাইল ক্লিপ এবং ডিউটিতে থাকা পুলিশকর্মীদের বয়ান সংগ্রহ ও যাচাই করার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের থেকেও বিস্তারিত জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। তবে পুলিশের এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট না হয়ে আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে অভিযুক্তের গ্রেফতারি ও এফআইআরের দাবিতে অনড় রয়েছেন।