দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিচারবিভাগের গরিমা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ নিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। স্কুল পাঠ্যবইয়ে (NCERT) বিচারব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে চিত্রায়িত করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত সংশ্লিষ্ট লেখকদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতিদের মতে, আগামী প্রজন্মের মনে বিচারবিভাগ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা কেবল অনভিপ্রেত নয়, এটি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত।
ঘটনার সূত্রপাত এনসিইআরটি-র একটি রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের কিছু অংশ নিয়ে, যেখানে পরোক্ষভাবে বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বিষয়টি আদালতের নজরে আসতেই তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতিরা। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যারা তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই দেশের সর্বোচ্চ স্তম্ভগুলিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করে, তারা সরকারি কোনো প্রকল্পের বা পাঠ্যক্রম তৈরির সাথে যুক্ত থাকার যোগ্য নয়। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, অবিলম্বে এই লেখকদের চিহ্নিত করে তাঁদের প্যানেল থেকে বাদ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারি চালাতে হবে।
এই রায়ের ফলে কেবল এনসিইআরটি নয়, রাজ্যস্তরের শিক্ষা বোর্ডগুলোকেও (SCERT) সতর্ক হতে হয়েছে। কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন পাঠ্যপুস্তকের প্রতিটি বিষয়বস্তু পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। আদালত সাফ জানিয়েছে, “সমালোচনা গণতন্ত্রের অঙ্গ হতে পারে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক অবমাননা বা ভিত্তিহীন অভিযোগ কোনোভাবেই শিক্ষার অঙ্গ হতে পারে না।” সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আইনি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি রিভিউ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।